রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য প্রবীণ নেতা জজ আলী বিশ্বাস (৭০) মৃত্যুবরণ করেছেন। শুক্রবার ভোর আড়াইটার দিকে পাংশার কশবামাজাইল ইউনিয়নের শান্তিখোলা গ্রামের নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়।
তিনি দীর্ঘদিন দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যানসারসহ জটিল রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ ছেলে ও ৪ কন্যা সন্তানসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
এদিকে জজ আলী বিশ্বাসের মৃত্যুতে শুক্রবার সকালে রাজবাড়ী জেলা কারাগারে আটক তার দুই ছেলে মতিন বিশ্বাস ও বদিয়ার বিশ্বাসকে প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন জানান জজ আলীর ভাই আমোদ আলী বিশ্বাস।
ওই আবেদন নাকচ করে দেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি জানান, করোনা সংক্রমণ বিবেচনায় প্যারোলে মুক্তি প্রদান সম্ভব নয়, জেলগেটে লাশ প্রদর্শনের জন্য জেল সুপারকে অনুরোধ করা হয়েছে।
রাজবাড়ীর ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আশেক হাসান বলেন, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জিল্লুল হাকিম প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে তাকে অনুরোধ করেছিলেন। এ বিষয়ে তিনি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে পাংশা থানা-পুলিশ আওয়ামী লীগ নেতা জজ আলী বিশ্বাস, তার দুই ছেলে মতিন বিশ্বাস, বদিয়ার বিশ্বাস ও নিজ জামাতা বাচ্চু মুন্সীসহ ৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ডাকাতির চেষ্টার ঘটনায় পৃথক ডাকাতির মামলা হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয় একটি হত্যা মামলায়ও তাদের গ্রেপ্তার দেখান হয়। এ তিনটি মামলায়ই জজ আলী বিশ্বাস রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে গত ২৮ অক্টোবর জামিন পান।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ওই সময় জজ আলী বিশ্বাস রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে আটক ছিলেন।
আদালতের জামিনের আদেশ পৌঁছার পর ২ নভেম্বর তিনি ছাড়া পান। এরপর ঢাকায় চিকিৎসা নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে নিজ গ্রামের বাড়িতে আসেন প্রবীণ এই আ.লীগ নেতা। রাত আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার বাদ আসর শান্তিখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে তাকে স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করা হবে।
এদিকে মৃত্যুর পরও কারাগারে আটক দুই পুত্রের প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জজ আলী বিশ্বাসের পরিবার। এ কারণে জেলা কারাগারে লাশ প্রদর্শনের আদেশ তারা প্রত্যাখ্যান করে লাশ রাজবাড়ীতে না আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
