৭ নভেম্বর দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছিল দেশ : ফখরুল

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২০, ০৪:৩৮ এএম

৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমেই বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘যে কারণে ৩ নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়েছিল। সেই চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দিয়ে এদেশের দেশপ্রেমিক সিপাহি ও জনগণ ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে দেশে সত্যিকার অর্থে স্বাধীনতাকে সুসংহত করেন। একই সঙ্গে গণতন্ত্রের যে পথ, সেই পথের নতুন সূচনা করেন।’

গতকাল শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। ৭ নভেম্বর বিএনপি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করে।

তিনি বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে ৭ নভেম্বর থেকেই এদেশে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। আর এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকের এই দিনটি বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭৫-এর পূর্বে দেশে যে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, জনগণের অধিকারকে হরণ করা হয়েছিল। আজকে আবার ঠিক একই কায়দায় বাংলাদেশের জনগণের অধিকারকে হরণ করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। সেজন্য আমরা আজকে শপথ নিয়েছি, গণতন্ত্রকে উদ্ধার করব, মিথ্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব এবং এই গণতন্ত্রের সংগ্রামকে অবশ্যই জয়ী করব ইনশাআল্লাহ।’

এর আগে সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় প্রতাকা উত্তোলন করা হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে সীমিত আকারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুপুর ১২টায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও সোয়া ১২টায় মহানগর উত্তর এবং সাড়ে ১২টায় পর্যায়ক্রমে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসমূহ শহীদ জিয়ার মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করে। বিকেল ৩টায় ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। একইভাবে দেশব্যাপী জেলা, মহানগর ও উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে নিজ নিজ সুবিধানুযায়ী যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভাসহ অন্যান্য কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

বেলা ১১টায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে মির্জা ফখরুল দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে নিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতার সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তারা নেতার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এরপর মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলাদল, কৃষকদল, ছাত্রদল, তাঁতীদল ও মৎস্যজীবী দলসহ অঙ্গ-সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কৃষক দলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সহ-সভাপতি গোলাম সরোয়ার, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা তকদির হোসেন মোহাম্মাদ জসিম, হাজী মোজাম্মেল হক মিন্টু সওদাগার, কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান সপরিবারের নিহত হওয়ার পর সেনাপ্রধানের দায়িত্বে আসেন জিয়াউর রহমান। এরপর মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে একটি অভ্যুত্থান হয়, জিয়া হন গৃহবন্দি। ৭ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধের আরেক সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থানে আটকাবস্থা থেকে মুক্ত হন জিয়া। এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন জিয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত