হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়

বৃদ্ধ মায়ের সেবার শর্তে প্রবেশনে থাকবেন আসামি

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২০, ০২:১০ এএম

মাদকের মামলায় পাঁচ বছরের দন্ডিত আসামির সাজা স্থগিত করে প্রবেশনে পাঠিয়েছে উচ্চ আদালত। আসামি মতি মাতবর পরিবারের সান্নিধ্যে থাকাকালীন পালন করবেন কিছু শর্ত। এর মধ্যে ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ মায়ের সেবাযত্ন করা, দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া ছেলের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া এবং নির্ধারিত বয়সের আগে ছেলে-মেয়ের বিয়ে অর্থাৎ বাল্যবিয়ে দেওয়া যাবে না। আগামী দেড় বছর এভাবে একজন প্রবেশন কর্মকর্তার অধীনে থাকতে হবে তাকে। শর্ত ভঙ্গ করলে তাকে কারাগারে যেতে হবে। গতকাল রবিবার বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ আসামির সাজা স্থগিত করে যুগান্তকারী এ রায় দেয়। বিচারিক আদালতে আসামির পাঁচ বছরের কারাদন্ডের বিরুদ্ধে করা রিভিশন আবেদন খারিজ এবং আসামির করা প্রবেশনের আবেদন মঞ্জুর করে এ রায় আসে। আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. রুহুল আমীন ও মো. আসাদ উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. এনামুল হক মোল্লা। আসামি মতি ইতিমধ্যে এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে প্রায় ২০ মাস কারাবাসে ছিলেন। হাইকোর্টের আদেশে জামিনে ছিলেন তিনি। 

‘দ্য প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিন্যান্স, ১৯৬০’ অনুযায়ী লঘু সাজায় দন্ডিত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর বিপরীতে প্রবেশন সম্পর্কিত এই বিধানটির প্রবর্তন কয়েক দশক আগে হলেও একটা সময় এর প্রয়োগ একেবারে ছিল না বললেই চলে। পরিবারের সদস্যদের সান্নিধ্যে রেখে আসামিকে সংশোধনের সুযোগ দিতে এবং পুনঃঅপরাধ রোধ করতে এটি ব্যবহার করা হয়। গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এক নির্দেশনায় এটি প্রয়োগ করতে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নির্দেশনা দেন। এর পর থেকে বিচারিক আদালতের কিছু রায়ে লঘু সাজায় দন্ডিত আসামিদের প্রবেশনে ও শর্তসাপেক্ষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকার সুযোগ দেওয়ার রায় হয়। তবে, উচ্চ আদালতে এতদিন এর নজির ছিল না খুব একটা।

আসামি মতি মাতবরের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, আসামি মতিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ঢাকা জেলার প্রবেশন কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান মাসুদের তত্ত্বাবধানে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে তাকে হাইকোর্টের দেওয়া শর্তগুলো মানতে হবে। অন্যথা হলে তাকে কারাগারে যেতে হবে।

 তিনি জানান, দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে প্রবেশন আইনে হাইকোর্টের দেওয়া এটি দ্বিতীয় রায় এবং বিশেষ আইনে এই প্রথম হাইকোর্টের আদেশে কোনো আসামিকে প্রবেশনে পাঠানো হলো।

আইনজীবীরা জানান, এক হাজারের বেশি ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগে মতি মাতবরসহ দুজনের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর ঢাকার কোতোয়ালি থানায় মামলা করে পুলিশ। শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ৮ জানুয়ারি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মতিসহ দুই আসামিকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেয় ঢাকার একটি আদালত। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতে আপিল করা হলে সেটি খারিজ হয়ে যায়। এরপর আসামি মতি আইনজীবীর মাধ্যমে ২০১৭ সালের ১ জুলাই হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন। ওই বছরের ৯ জুলাই হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ আবেদনটি গ্রহণ করে মতিকে জামিন দেয়। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত