শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে ‘ভালো’ একটি সড়ক ভেঙে পুনর্নির্মাণের নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, গোসাইরহাট পৌর এলাকার কয়েকটি সড়ক দীর্ঘদিন ধরেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। কিন্তু সেগুলো বাদ রেখে গোসাইরহাট বাজারের মহেশকান্দি ব্রিজ থেকে বাদামতলা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ৪৫৭ মিটার ভালো একটি সড়ককে নিচু ও খানাখন্দ দেখিয়ে পুনর্নির্মাণের জন্য দরপত্রের আহ্বান করে সংশ্লিষ্ট পৌর কর্র্তৃপক্ষ। মোট ৬২ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫৮ টাকা ব্যয়ের (আরসিসি সড়ক) ওই কাজটি পায় শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার রশিদ বিজনেস সেন্টার নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ নয় বছর ধরে নির্বাচন না হওয়ায় একজন প্রতিনিধির অভাবে পৌরসভার সব কাজ তদারকি করে আসছেন সংশ্লিষ্ট সচিব ও প্রকৌশলী।
স্থানীয়রা জানান, ২০১১ সালে গোসাইরহাট পৌরসভা গঠন করা হয়। কিন্তু পাশের ইদিলপুর ইউনিয়নের ৯টি মৌজা পৌরসভায় যুক্ত করায় আদালতে মামলা হয়। যা আপিল বিভাগ পর্যন্ত গড়ায়। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় নয় বছর ধরে বন্ধ গোসাইরহাট পৌরসভা ও ইদিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচন আটকে থাকায় ইদিলপুর ইউনিয়ন ও গোসাইরহাট পৌরসভার বাসিন্দারা জনপ্রতিনিধি বেছে নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ঘটনায় নাগরিক সেবা পেতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে গোসাইরহাট পৌরসভায় ৮ কোটি টাকার ১১টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। নির্বাচিত কোনো জনপ্রতিনিধি না থাকার সুযোগে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজ করছেন গোসাইরহাট পৌরসভার সচিব ও প্রকৌশলীরা। বিভিন্ন সড়কে সংস্কার কাজের কয়েক মাস না যেতেই পলেস্তরা ও খোয়া উঠে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গোসাইরহাট ডাকবাংলো থেকে গোসাইরহাট থানা কাছ পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। সামান্য একটু বৃষ্টি হলেই সড়কটিতে পানি জমে যায়। কিন্তু সেই সড়ক পুনর্নির্মাণ না করে বাজারের ভালো সড়কটি পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। যা হাস্যকর। এটা হরিলুট ছাড়া কিছুই না।
স্থানীয় ভ্যানচালক আব্দুল জলিল দেওয়ান, অটোচালক রাজিব হোসেন, ব্যবসায়ী আব্দুল কাদির শিকদারসহ অনেকেই বলেন, ‘সড়কটি অনেক ভালো ছিল। সড়কটি দিয়ে আরও ৫ থেকে ১০ বছর যাতায়াত করা যেত। সড়কটি ভাঙার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। ভাঙার কারণে সাধারণ মানুষের অনেক সমস্যা হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদেরও অনেক ক্ষতি হচ্ছে। ভালো একটি সড়ক কেন ভাঙা হলো, গোসাইরহাট পৌরসভা কর্র্তৃপক্ষই জানে। ইদিলপুর ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন শিকারী বলেন পৌরসভায় খানাখন্দে ভরা সড়ক আছে। সেই সড়ক ঠিক না করে ভালো সড়কটি ভেঙে ঠিক করছে কর্তৃপক্ষ।
গোসাইরহাট পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘সড়কটিতে সামান্য একটু বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। তা ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। সড়কটি উঁচু করার জন্যই পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে রশিদ বিজনেস সেন্টারের ঠিকাদার আব্দুর রশিদ গোলোন্দাজ মোবাইল ফোনে বলেন, সরকার টেন্ডার আহ্বান করেছে। তাই আমরা সড়কের কাজ পেয়েছি। কাজও চলমান। ভালো সড়ক ভাঙার কি অধিকার কারও আছে?
গোসাইরহাট পৌরসভার সচিব আব্দুল আলীম বলেন, সড়কটির বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকত। সে জন্যই পৌর পরিষদের অনুমতিক্রমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক মো. আলমগীর হুসাইন বলেন, ‘গোসাইরহাট বাজারের রাস্তাটা অনেক নিচু ছিল। দোকানগুলো উঁচু। বর্ষা মৌসুমে সড়কে কাদা ও পানি জমে যায়। তাছাড়া সড়কটি দীর্ঘদিন যাবৎ মেরামতও করা হচ্ছে। প্রজেক্টটা আগের, তাই আমরা বাদ দিতে পারি না। এজন্য সড়কটি করা হচ্ছে।’
