২০ বছরে ৪৩ শিক্ষার্থী খুন

বেশিরভাগ হত্যাকান্ডের বিচার হয়নি

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২০, ১২:১৩ এএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় গত ২০ বছরে ৪৩ শিক্ষার্থী খুনের ঘটনা ঘটেছে। এ সংখ্যা বেশিও হতে পারে। তবে এদের সিংহভাগই বিচার হয়নি। বছরের পর বছর ঝুলে আছে হত্যাকান্ডগুলোর মামলা। কোনোটা রয়েছে বিচারাধীন। আবার কোনোটার মীমাংসাও হয়েছে।

নিহতের শিকার এসব পরিবার জানিয়েছে, তারা মানসিকভাবে ভালো নেই। খুনের পর ওলটপালট হয়ে গেছে ঘরসংসার, জীবনযাপন। তবে এরা ভালো না থাকলেও হত্যা মামলার আসামিরা রয়েছে বীরদর্পে। নিহতদের পরিবারগুলোকে হুমকিধমকি দিচ্ছে আসামিরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রূপগঞ্জে হত্যার রাজনীতি বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী হত্যার নিশানা বেড়ে গেছে। থানা পুলিশ, বিভিন্ন পত্রপত্রিকার রেফারেন্স ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১১ মে গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের মৃত আমানউল্লার মেয়ে শান্তা মনিকে পিটিয়ে হত্যা করে বখাটেরা। শান্তা ভুলতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর সিনহা কলেজের ছাত্রী আমেনা বেগম খুনের শিকার হন। ২০১৩ সালের ১৯ এপ্রিল অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মুন্না খুনের শিকার হয়।

নাঈম হোসেন জাঙ্গীর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ২০১৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তাকে জবাই করে হত্যা করা হয়। একই বছরের ৪ জুন হত্যার শিকার হন মিঠাব এলাকার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নেয়ামুল হক। ২০১৪ সালে আরেক স্কুলছাত্র রূপসী নিউ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র আল-আমিনকে জবাই করে হত্যা করা হয়। একই বছরের ৭ জানুয়ারি বরপা বাগানবাড়ী এলাকায় অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুইটি আক্তার হত্যার শিকার হয়। ২০১৪ সালের ৩ জুলাই তারাব হাটিপাড়া এলাকার স্কুলছাত্রী মৌসুমি আক্তারকে হত্যা করা হয়। সে সিনহা স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ভুলতা স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র মারুফ মিয়া ২০১৬ সালের ২৫ আগস্ট খুনের শিকার হয়। একই বছর পরকীয়ার জেরে খুনের শিকার হয় কাজীরবাগ এলাকার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ২০১৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মুক্তিপণের ৫০ হাজার টাকা না পেয়ে ভুলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র তাজুল ইসলামকে হত্যা করে অপহরণকারীরা। একই বছরের ৪ নভেম্বর আয়েত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী প্রিয়াংকা আক্তারকে গলা কেটে হত্যা করে কতিপয় বখাটে। যা ওই সময় আলোচিত হয়।

২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আব্দুল হক ভূঁইয়া ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র এমরান হোসেন নিখোঁজ হয়। আজ অবধি তার সন্ধান মেলেনি। চলতি বছর ১ আগস্ট সোহরাওয়ার্দী কলেজের বাণিজ্য বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রিফাত হাসানকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বখাটেরা হত্যা করে। হত্যাকারীরা নিহতের পরিবারকে হুমকিধমকিও দিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে ২০১৮ সালের ২৭ মে মুড়াপাড়া কলেজের ছাত্র হোসেন আহম্মেদ রুবেল খুনের শিকার হয়। একই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি দেবই কাজীরবাগ আলিম মাদ্রাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী পাপিয়া হত্যার শিকার হয়। একই বছরের ২১ জানুয়ারি খুনের শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র পারভেজ আহম্মেদ জয়। একই বছরের ৬ জুন শিশুমেলা স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র জয়ন্ত চন্দ্র দাস হত্যার শিকার হয়। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি নবকিশলয় উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আসলাম হোসেনকে হত্যা করা হয়। সর্বশেষ চলতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি সলিমউদ্দিন চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র নাসির দেওয়ান খুনের শিকার হন।

কথা হয় নিহত পারভেজের পরিবারের সঙ্গে। তারা বলেন, মামলার মতো মামলা চলছে। আসামিরা জামিনে এসে ঘোরাফেরা করছে। মামলা তুলে নিতে হুমকিধমকি দিচ্ছে।

রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বেশিরভাগ ঘটনাই আমার এখানে যোগদানের আগের। চেষ্টা করব যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে। নিহত স্কুল ছাত্রছাত্রীদের পরিবারগুলো যদি কোনো সমস্যা মনে করে জানালে ব্যবস্থা নেব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত