আগামী শীতের মধ্যে মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন ফাইজার ও বায়োএনটেকের টিকার অন্যতম উদ্ভাবক অধ্যাপক উগর শাহিন।
এবারের শীতে বিশ্ব জটিল পরিস্থিতিতে পড়লেও পরবর্তী মৌসুমের জন্য আশার বাণী শুনিয়েছেন তিনি। কারণ আগামী গ্রীষ্মেই করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যাকসিনের কার্যকারিতার বিষয়ে ভালোভাবে জানা যাবে বলে অধ্যাপক শাহিনের মত।
গত সপ্তাহে ফাইজার ও বায়োএনটেক ইতিমধ্যে দাবি করে, তাদের করোনা প্রতিরোধী ভ্যাকসিন ৯০ শতাংশ সুরক্ষা দিতে পারে। প্রায় ৪৩ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের ওপর এ ভ্যাকসিন পরীক্ষা হয়।
এর মধ্যে ইউরোপজুড়ে শীত শুরু হয়ে যাওয়া করোনার প্রকোপও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ভ্যাকসিনটি বাজারে আনার জোর প্রচেষ্টা চলছে।
রবিবার বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, সবকিছু ঠিক থাকলে এ বছরের শেষ নাগাদ ও আগামী বছরের শুরুতে ভ্যাকসিন সরবরাহ শুরু হবে বলে আশাবাদী অধ্যাপক শাহিন।
তিনি জানান, আগামী বছরের এপ্রিল মাসের মধ্যে বিশ্বের ৩০ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হবে। তারপরে এর প্রভাব অনুভূত হবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির অ্যান্ড্রু মার শোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ গবেষক জানান, এখন পর্যন্ত তাদের ভ্যাকসিনের বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বলতে ভ্যাকসিন দেয়ার স্থানে হালকা ও মাঝারি মাত্রার ব্যথা শনাক্ত হয়েছে। আবার কিছু স্বেচ্ছাসেবী ব্যক্তির সামান্য সময়ের জন্য হালকা ও মাঝারি মাত্রার জ্বর হতে দেখা গেছে।
অধ্যাপক শাহিন বলেন, ‘এর বাইরে আমরা আর কোনো গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখিনি, যার কারণে ভ্যাকসিনের পরীক্ষা স্থগিত বা বন্ধ করে দেওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘গ্রীষ্ম আমাদের জন্য সহায়ক হবে। কারণ সে সময় সংক্রমণ থাকবে নিম্নমুখী।
অধ্যাপক শাহিন বায়োএনটেকের সিইও। তার স্ত্রী ডা. ওজলেম তুরেসি কোম্পানিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারে তুর্কি বংশোদ্ভূত এ জার্মানি দম্পতির নেতৃত্ব ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে।
