‘শিল্পাঞ্চলের’ উন্নয়নে বাধা তৈমূরের রিট বাণিজ্যে

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২০, ০৭:০৩ এএম

বিআরটিসির সাবেক চেয়ারম্যান ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার রিট বাণিজ্য করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, বিরোধী দলের রাজনীতির সঙ্গে থেকেও তিনি সরকারি দপ্তরের সুযোগ-সুবিধা আদায় করে বড় করছেন সম্পদের পাহাড়।

জানা যায়, তৈমূর আলম খন্দকার সম্প্রতি ব্যস্ত রয়েছেন জামায়াত-বিএনপির লোকজন নিয়ে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান আর আদালতে রিট বাণিজ্য নিয়ে। ‘শিল্পাঞ্চল’ রূপগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে ওঠা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকাজ বাধাগ্রস্ত করতে তিনি রিট পিটিশন দাখিল করে উন্নয়নকাজ স্থগিত করছেন।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, প্রতিষ্ঠান আইনগতভাবে তার রিটের জবাব দিতে গেলে জামায়াত-বিএনপির লোকজন দিয়ে রাস্তায় বিক্ষোভ করাচ্ছেন। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়ে কাজ স্থগিতের চেষ্টা করছেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, শিল্পপ্রতিষ্ঠান কোণঠাসা হয়ে পড়লে মীমাংসার জন্য বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের কাছে আপস প্রস্তাব পাঠান তৈমূর। হয়রানি থেকে রেহাই পেতে অগত্যা তার হাতে তুলে দেন কোটি কোটি টাকা। এভাবেই প্রতিনিয়ত তার সম্পদ ফুলেফেঁপে উঠছে।

জানা যায়, একসময়ের বিএনপির দাপুটে নেতা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ১১টি দুর্নীতির মামলা হয়েছে। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর দুদক তৈমূরের কাছে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিলের নোটিস দেয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হিসাব বিবরণী দাখিল না করায় কমিশনের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক মো. আবদুল কাদের জিলানী ২০০৮ সালের ৪ এপ্রিল লালবাগ থানায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করেন। ওই মামলায় তাকে দুই বছর বিনাশ্রম কারাদ- দেন ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আশরাফ হোসেন। সে সময় আদালতে তৈমূর দুর্নীতির কথা স্বীকার করে বিনাশ্রমের পরিবর্তে সশ্রম কারাদ- দাবি করে ব্যাপক আলোচনায় আসেন।

শিল্পাঞ্চল রূপগঞ্জে গড়ে ওঠা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকাজ বাধাগ্রস্ত করতে রিট পিটিশন দায়ের করার বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরকে তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, ‘আমি একজন আইনজীবী। ক্ষতিগ্রস্তরা আমার কাছে আইনি পরামর্শ চাইলে আমি সহায়তা করি। আর রূপগঞ্জে কোনো শিল্পাঞ্চল হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের জমি না কিনে তা ভরাট করা হচ্ছে গায়ের জোরে। সেখানে ক্ষতিগ্রস্তদের রক্ষা করতে আমি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। সেটাই আমার অপরাধ হয়েছে।’

সম্পদের বিষয়ে জানতে চাইলে দেশ রূপান্তরকে তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে আমার বাবা একটি বেসরকারি ব্যাংকের ম্যানেজার ছিলেন। আমাদের অনেক পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে। আমাদের টাকা দিয়ে স্কুল-কলেজ করেছি এলাকায়। বিআরটিসির চেয়ারম্যান থাকাবস্থায় দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকায় আমি কিছু করিনি। কেউ প্রমাণ করতে পারবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত