পাবনায় যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

ছিনতাইয়ে ব্যর্থ হয়ে চোর অপবাদে নির্যাতন

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২০, ১১:৪৯ পিএম

পাবনায় ভ্যানচালককে পিটিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে, উল্টো তাকেই চোর অপবাদ দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। মুমূর্ষু অবস্থায় ওই ভ্যানচালককে স্থানীয়রা উদ্ধার করে জেলার সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। অবস্থার অবনতি হলে গতকাল সোমবার তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত ভ্যানচালক শাকিল সাঁথিয়ার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের যশমন্তদুলিয়া গ্রামের মসজিদপাড়ার ইনুর ছেলে।  

শাকিলের চাচা আবদুল জলিল জানান, শাকিল গত রবিবার সকালে ৭২ হাজার ৭০০ টাকা নিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান কিনতে কুষ্টিয়া যাচ্ছিলেন। পথে যশমন্তদুলিয়া এলাকায় সুজানগর উপজেলার তাঁতিবন্দ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন সরদার ও তার লোকজন শাকিলের কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। এ সময় শাকিলের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে উল্টো শাকিল এই টাকা চুরি করেছে বলে অপবাদ দেয়। শাকিল প্রতিবাদ করলে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে বেদম মারপিট করে গুরুতর জখম করে।

শাকিলের বাবা ইউনুস আলী ইনু বলেন, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে ছুটে যাই। এ সময় জানতে পারি, যুবলীগ নেতা শাহিন সরদারের নেতৃত্বে ওই এলাকার যুবদল নেতা কিরন সরদার, জুয়েল, জুয়েল (ছোট) প্রথমে শাকিলকে মারপিট শুরু করে। এরপর মাসুদ, নয়ন, ভীষণ, রবিসহ সবাই মিলে গাছের সঙ্গে বেঁধে রড, হকিস্টিক, হাতুড়ি দিয়ে পেটায়। একপর্যায়ে শাকিল তাদের কথামতো স্বীকারোক্তি না দিলে তার পায়ে বস্তা সেলাইয়ের সুই গেঁথে দেয়। নির্যাতনে শাকিল অচেতন হয়ে পড়লে টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে তারা চলে যায়।

পরে তাঁতিবন্দ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রতন এসে শাকিলকে উদ্ধার করে প্রথমে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে গতকাল তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  শাকিলের বাবা আরও জানান, শাকিলের অবস্থা খুব ভালো নয়। তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। শাকিল একটু সুস্থ হলে আমরা থানায় মামলা করব। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

তাঁতিবন্দ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন সরদার দাবি করেন, ‘আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় আমাকে এ ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে। তবে সে সত্যিকারেরই চোর। তাকে এলাকার লোকজন মেরেছে, আমি মারার সময় ছিলাম না। এখানে রাজনৈতিক ইস্যু আছে।’ সুজানগর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার রাজু আহমেদ জানান, ভ্যানচালককে বেদম মারপিটের খবর পেয়ে আমি শাহিনকে ফোন করেছিলাম। তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তার পরও আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে দেখব। যদি সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত