আপিল বিভাগে ঝুলে গেল বিএনপি নেতা মীর নাছিরের জামিন

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২০, ০৭:১৩ এএম

দুর্নীতির মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা ও বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মো. নাছির উদ্দিনের করা জামিনের আবেদনের ওপর শুনানি মুলতবি (স্ট্যান্ডওভার) রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেয়। আগামী ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত শুনানি মুলতবি রাখায় মীর নাছিরকে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

আদালতে ভার্চুয়ালি শুনানিতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান। অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তিনি (মীর নাছির) জামিন পাননি। ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত শুনানি স্ট্যান্ডওভার রেখেছেন আদালত। সে পর্যন্ত তাকে কারাগারেই থাকতে হবে। ওই তারিখের পর আদালতের সিদ্ধান্ত জানা যাবে।’

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ৬ মার্চ মীর নাছির ও তার ছেলে মীর হেলালের বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা করে দুদক। ওই বছরের ৪ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত মীর নাছিরকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ১০ বছর ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে আরও তিন বছরের কারাদ- এবং বাবাকে দুর্নীতিতে সহযোগিতা করার অভিযোগে ছেলে মীর হেলালকে তিন বছরের কারাদ- দেয়। বিচারিক আদালতের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে গত বছর ১৯ নভেম্বর সাজা বহাল রেখে রায় দেয় হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এ রায়ের অনুলিপি বিচারিক আদালতের পৌঁছার পর তিন মাসের মধ্যে তাদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয় রায়ে।

গত জানুয়ারিতে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর গত ১৩ আগস্ট বিচারিক আদালত রায়ের নথি পায়। দুজন আত্মসমর্পণ না করে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করলে গত ১৫ অক্টোবর সেটি খারিজ করে দেয় সর্বোচ্চ আদালত। গত ৮ অক্টোবর ঢাকার ২ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে মীর নাছির আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ হয়। এরপর আইনজীবীর মাধ্যমে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করার পাশাপাশি জামিন চেয়ে আবেদন করেন তিনি। একই মামলায় দ-িত মীর নাছিরের ছেলে মীর হেলাল উদ্দিন গত ২৭ অক্টোবর ঢাকার সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। এরপর আইনজীবীর মাধ্যমে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল ও জামিনের আবেদন করেন তিনি। গত ১ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত মীর হেলালকে আগামী বছরের ৩১ মে পর্যন্ত জামিন দেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত