বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রতিদিনই কোনো না কোনোভাবে আগ্রাসী শক্তির দ্বারা দেশ আক্রান্ত হচ্ছে। আগ্রাসী শক্তির মোকাবিলায় মওলানা ভাসানীর প্রদর্শিত পথই আমাদের পাথেয়। গতকাল সোমবার মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিনই আমাদের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ, মাটি, মানুষ ও সংস্কৃতির ওপর চলছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নিরবচ্ছিন্ন আগ্রাসন। তাই এই মুহূর্তে আধিপত্যবাদী শক্তি এবং তাদের এদেশীয় প্রতিভূদের রুখতে মওলানা ভাসানীর প্রদর্শিত পথই আমাদের পাথেয়। আমরা সেই পথেই অপশক্তির অশুভ ইচ্ছাকে পরাস্ত করতে সক্ষম হব। যুগে যুগে তিনি শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।’
মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া পল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তিনি মারা যান। বাণীতে ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘মওলানা ভাসানী ছিলেন আফ্রো-এশিয়া, লাতিন আমেরিকার নির্যাতিত-নিপীড়ত মানুষের কণ্ঠস্বর। তিনি ছিলেন বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে উচ্চকিত কণ্ঠ। মওলানা ভাসানী মজলুমের বন্ধু, সা¤্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদ এবং অত্যাচারী শাসক-শোষক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এক সোচ্চার প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর।’
তিনি বলেন, ‘এদেশে আবারও গণবিরোধী শক্তি গায়ের জোরে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে গণতন্ত্রে স্বীকৃত মানুষের সকল স্বাধীনতাকে হরণ করে নিয়েছে। জনগণের মতামতকে অগ্রাহ্য করে দেশবিরোধী কর্মকা-ের মাধ্যমে বর্তমানে দেশকে যেদিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে তাতে জাতীয় স্বাধীনতা বিপন্ন হয়ে পড়ছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র সুরক্ষায় মওলানা ভাসানী যুগ যুগ ধরে আমাদেরকে প্রেরণা জোগাবে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে।’
