৩৮তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ক্যাডারবঞ্চিতদের আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম শ্রেণির বিভিন্ন নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এরপর শুরু হবে নন-ক্যাডার দ্বিতীয় শ্রেণির নিয়োগ। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নন-ক্যাডার প্রথম শ্রেণির শূন্য পদে নিয়োগের জন্য রিকুইজিশন (চাহিদাপত্র) চেয়েছে।
৩৮তম বিসিএসে পদ স্বল্পতার কারণে ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত নন এমন প্রার্থী সংখ্যা ৬ হাজার ১৭৩ জন। এর মধ্যে ৫ হাজার ৩২ জন নন-ক্যাডার প্রথম শ্রেণি এবং দ্বিতীয় শ্রেণির পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। পিএসসিসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে প্রথম শ্রেণির পদে ৫৪১ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও প্রার্থী সুপারিশ করা হবে। নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা, ২০১০-এর সংশোধিত বিধিমালা, ২০১৪-এ প্রথম শ্রেণির সুপারিশের পর দ্বিতীয় শ্রেণির পদে সুপারিশের বিধান রয়েছে। এই বিধান অনুসরণের জন্যই কমিশন সভায় প্রথম শ্রেণির পদের চাহিদা পিএসসিতে পাঠানোর সময় ৩১ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ৩০ জুন ৩৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে পিএসসি। এই বিসিএসে সাধারণ ক্যাডার ৬১৩, সহকারী সার্জন ২২০, ডেন্টাল সার্জন ৭১, বিভিন্ন টেকনিক্যাল ক্যাডারে ৭২৮ এবং শিক্ষায় ৭৬৮ জন অর্থাৎ ২ হাজার ৪০০ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের পিএসসিকেন্দ্রিক অপেক্ষার পালা শেষ হলো। কিন্তু নিয়োগ লাভের অপেক্ষা শুরু হলো। কারণ পিএসসির সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। নিয়োগ দেওয়ার আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রার্থীদের পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ করবে। এ ছাড়া বিভিন্ন কোটায় যাদের নিয়োগ হবে তাদের সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করবে। পিএসসি সুপারিশ করার পরও নিয়োগ দিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রায় এক বছর লেগে যায়।
পিএসসির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনার মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে আমরা ফলাফল দিতে নিরলসভাবে কাজ করেছি। করোনায় অফিস বন্ধ থাকায় ফল প্রকাশে দেরি হয়। এ ছাড়া জনপ্রশাসন থেকে বেশ কিছু নতুন পদ যুক্ত হওয়ায় কাজ অনেক বেড়ে যায়। সেটিও ফল প্রকাশে দেরির অন্যতম একটি কারণ।’
৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় পাস করেন ৯ হাজার ৮৬২ জন। লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪ হাজার ৫৪৬ জন। লিখিত পরীক্ষায় পাস করা প্রার্থীরা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। গত ফেব্রুয়ারিতে মৌখিক পরীক্ষা শেষ হয়। আর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০১৮ সালের ১৩ আগস্ট। ২০১৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর এ বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয়। পরীক্ষা হওয়ার প্রায় দুই মাসের মধ্যে এর ফল প্রকাশ করা হয়।
৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নিতে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৪৬৮ জন আবেদন করেছিলেন। পিএসসিসংশ্লিষ্টরা জানান, ৩৮তম বিসিএসের মাধ্যমে জনপ্রশাসনে ২ হাজার ২৪ জন ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগ করার কথা ছিল। পরে ১৩৬ জন বেশি নিয়োগের প্রস্তাব আসে জনপ্রশাসন থেকে। এতে এই বিসিএসে মোট পদের সংখ্যা হয় ২ হাজার ১৬০। পরে ২৪০ জন যুক্ত হয়ে মোট পদের সংখ্যা হয় ২ হাজার ৪০০।
প্রতি বছর একটি বিসিএস আয়োজন করার কথা থাকলেও সাংবিধানিক এ সংস্থাটি তিন বছরেও একটি বিসিএস শেষ করতে পারছে না। সরকার ক্যাডার কর্মকর্তাদের শূন্য পদের চাহিদা জানানোর পর সেই চাহিদাপত্র নিয়ে সংস্থাটির মাসের পর মাস কেটে যায়। পিএসসি যখন এসব নিয়োগ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে তখন সরকার পিএসসির ওপর নতুন দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পিএসসি বর্তমানে শুধু প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করে। কিন্তু সরকার চাইছে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে নিয়োগেও পিএসসির সুপারিশ পেতে। এ নিয়ে পিএসসি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চিঠি চালাচালি চলছে।
সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকার এখনো একক বৃহত্তম চাকরিদাতা। একদিকে সরকারের সাড়ে তিন লাখের মতো শূন্য পদ, অন্যদিকে লাখ লাখ বেকার। এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জন্য পিএসসিকে সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা করতে হবে।’
