বর্তমানে দেশে হৃদরোগীদের ৩০-৪০ শতাংশ এনজিওগ্রাম ও এনজিওপ্লাস্টি পায়ের ধমনির পরিবর্তে হাতের ধমনি দিয়ে করা হচ্ছে। এ ধরনের চিকিৎসায় হৃদরোগীদের কোনো জটিলতা দেখা দেয় না এবং রোগী অল্প সময়ে হাসপাতাল ত্যাগ করতে পারেন। অন্যদিকে পায়ের ধমনি দিয়ে এনজিওগ্রাম ও এনজিওপ্লাস্টি করা রোগীকে কমপক্ষে তিন দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়। কখনো কখনো পায়ে রক্তক্ষরণসহ নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীর জামাল উদ্দিন।
ডা. জামাল উদ্দিন আরও বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি শতভাগ হৃদরোগী এনজিওগ্রাম ও এনজিওপ্লাস্টি হাতের ধমনি দিয়ে করতে। কারণ পায়ের ধমনি দিয়ে এনজিওগ্রাম ও এনজিওপ্লাস্টি করা রোগীকে ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালে থাকতে হয়। এ সময় তাকে শুয়ে থাকতে হয়, তার উরুসন্ধির কুঁচকিতে ব্যাকআপ দিয়ে রাখতে হয়। অনেক সময় পায়ে রক্তপাত হয়। আর হাত দিয়ে করলে রোগী সঙ্গে সঙ্গে চলে যেতে পারেন। হাসপাতালে থাকতে হয় না। শারীরিক কোনো জটিলতা দেখা দেয় না।’
গত বুধবার কোর্সের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীর জামাল উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এ সংক্রান্ত সম্মেলন উদ্বোধন করেন জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) ডা. এম এ মালিক। সম্মেলনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১০টি দেশের রেডিয়াল ইন্টারভেনশনালিস্ট বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন এবং দেশের শতাধিক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অংশ নেন। সম্মেলনের প্রথম দিনে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন থেকে সরাসরি চার জন রোগীর হাতের ধমনি দিয়ে এনজিওগ্রাম ও এনজিওপ্লাস্টি করার প্রক্রিয়া দেখানো হয়। শেষ দিন বৃহস্পতিবার ইব্রাহিম কার্ডিয়াক সেন্টার থেকে একজন রোগীর এনজিওগ্রাম ও এনজিওপ্লাস্টি করার প্রক্রিয়া দেখানো হয়।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. মীর জামাল উদ্দিন বলেন, ‘এই প্রক্রিয়া দেখানোর অর্থ হলো তরুণ কার্ডিওলজিস্ট শিখল। তারা শিখলে অন্য চিকিৎসকরাও হাতের ধমনি দিয়ে এ ধরনের চিকিৎসা করতে পারবেন।’ হাতের ধমনি দিয়ে করলে সরকারের জন্য লাভ উল্লেখ করে এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, ‘পায়ের ধমনি দিয়ে এনজিওগ্রাম ও এনজিওপ্লাস্টি করলে প্রথম দিন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন তার চিকিৎসা শুরু হয়। তার পরের দিন তাকে রিলিজ দেওয়া হয়। অর্থাৎ তিন দিন ওই রোগীকে হাসপাতালে রাখতে হয়। কিন্তু হাতের ধমনিতে করলে রোগীকে হাসপাতালে থাকতেই হবে না। সকালে করলে বিকেলেই চলে যেতে পারবেন। এতে সরকারের সাশ্রয় হয়।
এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ রেডিয়াল ইন্টারভেনশন কোর্স হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি পেশাজীবী সংগঠন। হৃদরোগীদের পায়ের ধমনি দিয়ে এজিওগ্রাম ও এনজিওপ্লাস্টি করায় অনেক সময় রোগীর জটিলতা দেখা দেওয়ায় ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্টদের হাতের ধমনি দিয়ে এনজিওগ্রাম ও এনজিওপ্লাস্টি করার আধুনিক প্রশিক্ষণে এই কোর্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।’
