করোনায় বেশি মরছেন কৃষ্ণাঙ্গরা

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২০, ০৮:১৮ এএম

করোনা মহামারীতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর দিক দিয়েও দেশটি শীর্ষ অবস্থানে আছে। চলতি মাসে দেশটিতে প্রায় প্রতিদিনই রেকর্ডসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এবং মৃতের সংখ্যা আড়াই লাখ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক মিডিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলছে, দেশটিতে করোনায় মৃতদের মধ্যে কৃষ্ণাঙ্গদের মৃত্যুহার সর্বাধিক।

যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করোনা রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই নেটিভ আমেরিকান এবং লাতিন অঞ্চলের মানুষ। শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গদের আক্রান্ত হওয়ার হার চার গুণ বেশি। তবে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনে করোনাভাইরাসকে ভয়ানক কোনো ভাইরাস নয় হিসেবে দেখার মানুষ রয়েছেন। সিনেটের অনেক সদস্যই মনে করেন, আমেরিকানদের করোনার ভয়ে সারাক্ষণ মাস্ক পরে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। যদিও তাদের এই দাবির পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বা ভিত্তি নেই।

শিকাগোর নিউ মাউন্ট পিলগ্রিম মিশনারি ব্যাপ্টিস্ট চার্চের রেভারেন্ড মার্শাল হ্যাচ আলজাজিরাকে বলেন, ‘করোনার কারণে এই দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে কৃষ্ণাঙ্গরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। সামাজিকভাবে যাদের অবস্থান নিম্নে তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। বাকিরা তাদের জীবনযাপন পদ্ধতি ও চিকিৎসার কারণে করোনা থেকে বেঁচে যাচ্ছেন।’ হ্যাচের বোন রোদা হ্যাচ ও দীর্ঘদিনের বন্ধু ল্যারি হ্যারিস গত এপ্রিলের শুরুতে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে মারা যান করোনায়।

চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে যখন করোনার সংক্রমণ শুরু হয় তখন শিকাগোতে মৃতদের মধ্যে ৭০ শতাংশই ছিল কৃষ্ণাঙ্গ। ওই অঞ্চলে প্রথম মারা যান ৪৮ বছর বয়সী ফিলিপ টমাস নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ। তার বোন অ্যানগেলা ম্যাকমিলার জানান, তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। শরীরে উপসর্গ দেখার পরই তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে আইসোলেশনে চলে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শিকাগোর মেয়রের দপ্তর থেকে গত এপ্রিলেই র‌্যাসিয়াল ইকুইটি র‌্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন করা হয়। শিকাগোর কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে কেন ভাইরাসটির সংক্রমণের মাত্রা বেশি তা খতিয়ে দেখাই ছিল ওই দলের কাজ। পর্যবেক্ষকরা কৃষ্ণাঙ্গদের সবচেয়ে বেশি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কারণ হিসেবে শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় তাদের নিম্নমানের জীবনযাপন ব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন। আর এই জীবনযাপন ব্যবস্থার জন্য দায়ী তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা।

যুক্তরাষ্ট্রের সমাজের অভ্যন্তরের বৈষম্যের কারণে কৃষ্ণাঙ্গদের মৃত্যুহার বেশি বলে মনে করেন রাশ ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের ডাক্তার ডেভিড অ্যানসেল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত