ববি ছাত্রী সাওদা হত্যা

হাইকোর্টে আসামি রাসেলের মৃত্যুদন্ড কমে যাবজ্জীবন

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০১:৫২ এএম

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী সাওদা হত্যা মামলায় আসামি রাসেল মিয়া মাতুব্বরকে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদন্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে হাইকোর্ট। আসামির ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদন্ড অনুমোদন) ও আপিলের শুনানি শেষে গতকাল সোমবার এ রায় দেয় বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে এ হত্যাকান্ডের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে পড়তেন আসামি রাসেল। তার বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটায়। একই উপজেলার আবদুল রাজ্জাকের মেয়ে নিহত সাওদা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রেমের সম্পর্ক রাখতে রাজি না হওয়ায় ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাওদাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন রাসেল। পরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর সাওদার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ওইদিন বিকেলে মারা যান সাওদা। এ ঘটনায় ৫ সেপ্টেম্বর রাতে সাওদার মা সাহিদা বেগম বাদী হয়ে বরিশাল কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ রাসেলের ছাত্রত্ব বাতিল করে। সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১ জুন রাসেল মিয়াকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেয় বরিশাল জেলা ও দায়রা আদালত। একই সঙ্গে আসামিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয় রায়ে। রায়ের পর আসামির ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি সাজা থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেন রাসেল। আদালতে রাসেলের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির ও এম মাসুদ রানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) শাহীন আহমেদ খান। অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা রায়ের বরাত দিয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনার সময় আসামির বয়স ছিল ২০ বছর এবং আসামির পূর্বের কোনো ফৌজদারি অপরাধের তথ্য নেই। এ ছাড়া আসামি বিগত পাঁচ বছর ধরে কারাগারের কনডেম সেলে রয়েছেন। এসব বিবেচনায় হাইকোর্ট তার সাজা কমিয়েছেন। তবে বিচারিক আদালতে রাসেলকে দেওয়া অর্থদন্ড বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং তা অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদন্ড দিয়েছে হাইকোর্ট।’ 

এদিকে আলোচিত এ হত্যা মামলার রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ববির শিক্ষক সমিতির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মো. আরিফ হোসেন বলেন, হত্যার শিকার আর হত্যাকান্ডে জড়িত দুজনই আমাদের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাই এটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। সাওদাকে বাঁচানোর জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম। হাইকোর্টের এই রায়ের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও রেজিস্ট্রার (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মুহসিন উদ্দিন জানান, হাইকোর্টের রায়ের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে। তবে সর্বোচ্চ শাস্তি বহাল থাকলে খুশি হতাম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত