শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় রাজশাহীর শাহমখদুম মেডিকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মনিরুজ্জামান স্বাধীনের স্ত্রী বিউটি খাতুন ও ভাই মেহেদী হাসান মিঠুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে মনিরুজ্জামানসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে নগরীর চন্দ্রিমা থানায় মামলা করেন হামলায় আহত শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান। মামলায় অজ্ঞাত আরও ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। চন্দ্রিমা থানার ওসি সিরাজুম মুনীর এসব তথ্য জানান।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে শাহমখদুম মেডিকেল কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে ঢুকতে চাইলে তাদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একপর্যায়ে তারা গেট খুলে দেয়। কিন্তু ভেতরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় তারা। তাদের লাঠিপেটায় আহত হন সাত শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাঁচজন ছাত্রী ও দুজন ছাত্র রয়েছেন।
হামলার এ ঘটনায় গতকাল শনিবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিত আদেশবলে দ্রুত অন্য প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে তাদের মাইগ্রেশন সম্পন্ন করার এবং হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এদিকে কলেজটি পরিদর্শনে গতকাল সকালে ঢাকা থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি টিম যায়। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এ কে এম আমিনুল হকের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিএমডিসির প্রফেসর ড. সরফুদ্দীন আহমেদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপসচিব আবদুল কবির এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. উৎপল কিশোর।
মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, রাতেই অভিযান চালিয়ে কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামানের স্ত্রী বিউটি ও ভাই মেহেদীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল সকালে কলেজের দুই কর্মচারী মাহমুদুল হাসান ও সালাউদ্দিন বাপ্পিকে থানায় আনা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা পেলে তাদেরও গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
জানা গেছে, শাহমখদুম মেডিকেল কলেজে এ পর্যন্ত ২২৫ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। গত ২ নভেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব বদরুন নাহার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কলেজটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের অন্য যেকোনো মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরের দাবি জানান। অন্যদিকে কলেজ কর্র্তৃপক্ষ নির্দেশনা পুনর্বিবেচনার দাবি জানায়।
হামলার ঘটনার পর মনিরুজ্জামান স্বাধীন জানিয়েছিলেন, এটি শিক্ষার্থীদের পরিকল্পিত ঘটনা। মূলত পরিস্থিতি ঘোলাটে করার উদ্দেশ্য নিয়ে শিক্ষার্থীরা বন্ধ ক্যাম্পাসে যান।
