সাদা চাল চিনির মতো ক্ষতিকর: বলছে গবেষণা

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০৭:৫৪ পিএম

বিশ্বের অর্ধেকের বেশি মানুষের প্রধান ভরসা ভাত। ২০১৮ সালে বিশ্বে ৪৮৫ মিলিয়ন টন ধান উৎপাদন হয়েছিল। তবে সাদা ভাত শরীরের জন্য ক্ষতিকর বলে জানাচ্ছে গবেষণা। তুলনায় লাল চালের ভাত স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।  

হাবার্ড মেডিকেল স্কুলের এক গবেষণায় বলা হয়, সাদা আথবা লাল চাল একই প্রজাতির। এর নাম ‘ওরিজা সাতিভা’। তবে এ দুই ধরনের ভাতের পার্থক্য হলো, দুটি উপাদান যা সাদা ভাতে থাকে না। একটি হলো ব্র্যান, যা চালের বহিরাংশে থাকে। অপরটি হলো জার্ম।

এ দুই উপাদানের কারণে লাল চাল পুষ্টিকর হয়।  

তুলনায় সাদা পরিশোধিত সাদা চালের ব্র্যান ও জার্ম অংশ অপসারণ করা হয়। যে কারণে এ চালে পুষ্টি উপাদান কম থাকে। অবশ্য সাদা চাল সেদ্ধ হতে সময় কম লাগে এবং শরীরে এর দীর্ঘ স্থায়িত্বও বেশি হয়।

তার মানে এই নয় যে, সাদা ভাত শরীরের জন্য খুব ক্ষতিকর। তবে এটি কম স্বাস্থ্যকর। কোলারাডো স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এলিজাবেথ রায়ান বলেন, দিন শেষে আমরা কী খেলাম সেটাই বিবেবচ্য।  

তার গবেষণায় জানা যায়, চালে ব্র্যান ও জার্ম থাকলে পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় সেগুলো হলো-

ক্যালসিয়াম: যা দাঁত ও হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

ফ্যাট: আনস্যাচুরেটেটড ফ্যাট হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো।

ফসফরাস: ক্যালসিয়ামের সঙ্গে মিলে দাঁত ও হাড় মজবুত করে।

ভিটামিন বি১ ও বি৩: স্নায়ুতন্ত্র সঠিকভাবে কাজ করে।

প্রোটিন: পেশির বিকাশ ও উন্নয়নে কাজ করে।  

ম্যাগনেসিয়াম: এটিও স্নায়ুসহ অন্যান্য উপকারে আসে।

গবেষক রায়ান আরো জানান, রাইস ব্র্যান খেলে পরিপাকতন্ত্রে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কমে। ব্র্যানের উপস্থিতি মানে সেখানে আছে ফাইটোকেমিক্যাল যা অ্যন্টি অক্সিডেন্ট ও অন্টিইনফ্লেমেটরি উপাদানসমৃদ্ধ। যা সাদা চালে থাকে না।  

তিনি জানান, লাল চালে সাদা চালের তুলনায় রয়েছে সহজে হজমযোগ্য ও দেরিতে হজমযোগ্য আশ। যা এক ধরনের ভালো প্রিবায়োটিক। এই প্রিবায়োটিক শরীরের খারাপ ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস প্রতিরোধ করে। এটি পাকস্থলিতে থাকা উপকারী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণিকার শক্তি বৃদ্ধি করে। যা হজম প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয়।

রায়ান আরো বলেন, সাদা বা লাল চালের বেশির ভাগ ক্যালোরি আসে কার্বোহাইড্রেড থেকে। তবে সাদা চালে ব্লাড সুগার দ্রুত বাড়ে। যা ডায়াবেটিকের জন্য দায়ী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত