নড়াইলে কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও চাঁচুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফর রহমানকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নড়াইল প্রেস ক্লাবের সামনে চাঁচুড়ী ইউনিয়নবাসীর আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন চলাকালে এ হামলার প্রতিবাদ ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বক্তব্য দেন চাঁচুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসলাম মোল্যা, আহত চেয়ারম্যানের পুত্র বধূ মিলিয়া খানম, মেয়ে শাহানা স্বর্ণা, কালিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার আলম সোহান প্রমুখ।
পরে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। কর্মসূচিতে এলাকার নারী, পুরুষ, তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
এ ছাড়া সোমবার বিকেলে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজনে নড়াইল-কালিয়া সড়কের বনগ্রাম বাজারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে কালিয়া পৌরসভার মেয়র ফকির মুশফিকুর রহমান লিটন ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে বক্তব্য দেন।
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ নেতা মো. লুৎফর রহমান ২৬ নভেম্বর সকালে নড়াইল পৌরসভার প্রয়াত মেয়র জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের জানাজায় অংশ নিতে নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলযোগে নড়াইল শহরের উদ্দেশে রওনা হন।
পথে কালিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে পৌঁছালে সেখানে ওৎপেতে থাকা কালিয়া উপজেলার বনগ্রামের মুকুল ও টুটুল মোল্যাসহ ২৫/৩০ জনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে হামলা চালায়।
সন্ত্রাসীরা তার দুই হাত ও পায়ের রগ প্রায় বিচ্ছিন্ন করে দেয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে প্রথমে নড়াইল সদর হাসপাতাল ও পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু অবস্থার ক্রমাবনতি ঘটতে থাকলে ঘটনার রাতেই তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে নেয়া হয়।
কালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় আহতের ভাই দিদারুল আলম বাকী বাদী হয়ে ২২জনকে আসামি করে কালিয়া থানায় মামলা করেছেন।
ওই মামলায় চাঁচুড়ী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম হিরোকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
