ভারতীয় প্রজাতির ঔষধি ও পুষ্টি গুণসম্পন্ন মুরগি কাদাকনাথে স্বপ্ন বুনছেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার খামারিরা। এরই মধ্যে কারও কারও স্বপ্ন সফলতায়ও রূপ নিয়েছে। শহরের চন্ডীবেড় এলাকার খামারি কবির মিয়া তেমনই একজন। কাদাকনাথ মুরগির সফল খামারি হিসেবেই নতুনদের কাছে আদর্শ ও অনুপ্রেরণা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন তিনি। কাদাকনাথ মুরগি পালনে উৎসাহ প্রদান ও সহযোগিতা করে যাচ্ছেন নতুন উদ্যোক্তাদেরও।
কাদাকনাথ মুরগি দেখতে কালো। এর মাংসও কালো। ডিম দেশি মুরগির মতোই দেখতে সাদা। তবে মাংস এবং ডিমের স্বাদ ও পুষ্টি দেশিজাতের মুরগির চেয়ে বেশি। অন্যদিকে এ মুরগির মাংস ও ডিম ঔষধি গুণসম্পন্ন। এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট খামারিরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কাদাকনাথের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এ জাতের মুরগির খাবার খরচ খুবই কম। কেনা খাবারের পাশাপাশি এদের খাদ্য তালিকার অন্যতম হলো সবুজ ঘাস ও লতাপাতা। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যসব মুরগির চেয়ে বহুগুণে বেশি। পালন করা যায় দেশি মুরগির মতোই। তাছাড়া এদের জন্য লেয়ার বা ব্রয়লার মুরগির মতো আলাদাভাবে ঘর বা শেড তৈরি করতে হয় না। খামারি কবির জানান, ২০১৭ সালে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত একটি প্রামান্য অনুষ্ঠান থেকে প্রথমে কাদাকনাথ মুরগির বিষয়ে জানতে পারেন তিনি। ওই বছরই তিনি স্বল্প পরিসরে কাদাকনাথ মুরগির খামার গড়ে তোলেন; যা বর্তমানে এক হাজারেরও বেশি মুরগির খামারে রূপান্তরিত হয়েছে। বর্তমানে তিনি তার খামারে উৎপাদিত ডিম, বাচ্চা এবং মুরগি খুচরা ও পাইকারিভাবে বিক্রি করছেন।
তিনি আরও জানান, তার এ খামার দেখতে আশপাশ এলাকার লোকজন প্রতিদিনই ভিড় করেন। আর দেখতে আসা অনেকেই ৫-১০টি করে মুরগি কিনে নিজেরা খামার গড়ে তুলছেন। এ মুরগির খামারে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে মাসে ১৫-২০ হাজার এবং লাখ টাকা বিনিয়োগে মাসে ৫০ হাজার টাকার মতো মুনাফা করা যাবে।
ভৈরব উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খান জানান, দেশিজাতের মতোই কাদাকনাথ মুরগির জন্য দেশের আবহাওয়া যথেষ্ট উপযোগী। কাদাকনাথ মুরগির খামারিদের টেকনিক্যাল সহযোগিতাসহ সবরকমের সহায়তা করে যাচ্ছেন তারা।
