ভাস্কর্য ইস্যুতে দেশে চলমান অস্থিরতা বিষয়ে শীর্ষ ওলামাদের বৈঠকে ২টি সিদ্ধান্ত এবং ৫টি প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে। শনিবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসায় দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে শীর্ষ আলেমদের নিয়ে এ বৈঠক হয়।
এদিকে ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনে হেফাজতে ইসলামসহ কয়েকটি ইসলামি দলের বিরোধিতার মধ্যে কুষ্টিয়ায় জাতির পিতার নির্মাণাধীন এক ভাস্কর্য ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।
শীর্ষ ওলামাদের বৈঠকে ২টি সিদ্ধান্ত এবং ৫টি প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত দুটি হলো—মাহমুদুল হাসান প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেশের ওলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে একটি চিঠি পাঠাবেন। যাতে ভাস্কর্য বিষয়ে ওলামাদের বক্তব্য ও আহ্বান তুলে ধরা হবে। দ্বিতীয়ত, মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে উলামায়ে কেরামের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চলমান সংকট নিরসনে নিজেদের দাবি ও অবস্থান তুলে ধরবেন।
বৈঠকে সরকারের প্রতি যেসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে তা হলো- জীবিত বা মৃতের মূর্তি বা ভাস্কর্য নির্মাণ হারাম। তাই এ হেন কাজ করে কোটি মুসলমানদের কলিজায় আঘাত না দিয়ে বিকল্প চিন্তা করতে সরকারের প্রতি প্রস্তাব। অনলাইন ও অফলাইনে নবীর অবমাননা বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কঠিন শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান। ধোলাইপাড়ে বন্ধ করে দেওয়া মসজিদ চালু করতে হবে এবং বিগত ঈমানি আন্দোলনে গ্রেপ্তারদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। শব্দ দূষণের অজুহাতে মাহফিল নিষিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। ওলামাদের সম্পর্কে কটূক্তি ও বিষোদ্গার বন্ধ করতে হবে।
উল্লেখ্য, ঢাকার ধোলাইরপাড় চত্বরে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাস্কর্য তৈরির পরিকল্পনার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই ইসলামপন্থী বেশ কয়েকটি দল সেই পরিকল্পনার বিরোধিতায় সোচ্চার হয়েছে। গত মাসে বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা জুনায়েদ বাবুনগরী এক সম্মেলনে ভাস্কর্য বিরোধী কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
বৈঠকে শীর্ষ আলেমদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদি, মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, আল্লামা শায়খ সাজিদুর রহমান, আল্লামা মুহিব্বুল হক গাছবাড়ী, মুফতি মনসুরুল হক, মুফতি মুবারকুল্লাহ, মুফতি রুহুল আমীন, মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মুফতি জাফর আহমদ, মুফতি আরশাদ রাহমানী, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি ফয়জুল করিম, মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু, মুফতি মুহাম্মদ আলী, মাওলানা কেফায়েতুল্লাহ আজহারী, মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ্ আইয়ুবী, মাওলানা হাসান জামিল, মাওলানা নাজমুল হাসান, মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া প্রমুখ।
