চাঁদপুর মিরসরাই মৌলভীবাজার মুক্ত দিবস আজ

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:২১ এএম

১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয় চাঁদপুর, মৌলভীবাজার এবং চট্টগ্রামের মিরসরাই। মুক্তিসেনারা এদিন জয় বাংলা স্লোগানে দেশের মানচিত্রখচিত লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে দেন মুক্তাঞ্চলে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর

চাঁদপুর : মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি বাহিনী ভোরে চাঁদপুর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। চাঁদপুর থানার সামনে বিএলএফ বাহিনীর প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত রবিউল আউয়াল কিরণ হানাদারমুক্ত চাঁদপুরের আকাশে এইদিন প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।

নয় মাস খুন, ধর্ষণ, নির্যাতনের পর ৭ ডিসেম্বর হাজীগঞ্জ, মুদাফফরগঞ্জে যৌথ বাহিনীর আক্রমণের মুখে খানসেনারা পালাতে শুরু করলেও বেশ কয়েকটি স্থানে মুক্তি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ হয় এবং প্রায় ৩৬ ঘণ্টা যুদ্ধ চলে। কিন্তু হানাদাররা সুবিধা করতে না পেরে চাঁদপুর হয়ে পালাতে শুরু করে। মুক্তি বাহিনী ও মিত্র বাহিনীর সদস্যরা ট্যাঙ্ক নিয়ে শহরে প্রবেশ করেন এবং চাঁদপুর বড় স্টেশনে গিয়ে দুটি ট্যাঙ্কের মাধ্যমে গোলাবর্ষণ করে অন্তত ৫০০ পাকিস্তানি সেনার মেঘনায় সলিল সমাধি ঘটান। এতে শত্রুমুক্ত হয় চাঁদপুর।

মৌলভীবাজার : ৮ ডিসেম্বর শেরপুর ও শমসেরনগরে সম্মুখযুদ্ধসহ মুক্তি বাহিনী ও মিত্র বাহিনীর যৌথ আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি বাহিনী মৌলভীবাজার থেকে পিছু হটে। ৭৮ জন মুক্তিযোদ্ধা ও অসংখ্য মুক্তিকামী মানুষের প্রাণের বিনিময়ে মৌলভীবাজার হানাদার মুক্ত হয়। এরপর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে তৎকালীন মহকুমা হাকিমের কার্যালয়ে (বর্তমান জজকোর্ট ভবন) মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয়রা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) : মুক্তিকামী জনতা পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসরদের হটিয়ে একাত্তরের আজকের দিনে চট্টগ্রামের মিরসরাইকে শত্রুমুক্ত করেন। যুদ্ধকালীন মিরসরাই থানার কোম্পানি কমান্ডার মাস্টার নিজাম উদ্দিন চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, হানাদাররা পরাজিত হয়ে পালিয়ে যাওয়ায় বিকেল সাড়ে ৩টা নাগাদ যুদ্ধ শেষ হয়। মুক্ত হয় মিরসরাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত