মাটিতে নোংরা ট্রেতে রাখা ব্রেড বিস্কুটসহ বেকারি সামগ্রি। আশেপাশে ঘুরছে বিড়াল, হয়তো সুযোগ মত সেও মুখে তুলে নিচ্ছে । খাবারের উপড়ে ঘুরছে মাছি মশাসহ নানা কীট-পতঙ্গ। এইসব আবার মানুষের পেটে যাচ্ছে ।
এমন অবস্থায় ধরা পড়েছে র্যাব হেডকোয়ার্টারের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আক্তারুজ্জামানের চোখে। এই সব অভিযোগে মৌলভীবাজারে ৫টি বেকারিতে অভিযান চালিয়ে ৬ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে মৌলভীবাজার শহরের বিভিন্ন বেকারিতে অভিযান পরিচালনা করেন র্যাব হেডকোয়ার্টারের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আক্তারুজ্জামান। এ সময় র্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের অধিনায়ক আহমদ নোমান জাকিরসহ র্যাবের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শহরের জুগিডর এলাকার সম্রাট বেকারিতে গিয়ে দেখা যায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য সামগ্রী তৈরি করে হচ্ছে। এর দায়ে ওই প্রতিষ্ঠানকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।
পরবর্তীতে শহরের বড়হাট এলাকায় ন্যাশনাল বেকারিতে গিয়ে দেখা যায় নোংরা পরিবেশে মেঝেতে তৈরী খাবার রাখা হয়েছে। এর দায়ে এই প্রতিষ্ঠানটিকেও এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে পশ্চিমবাজার এলাকার আল মদিনা বেকারির তৈরী কেক ও ব্রেডে মাছি ও তেলাপোকা পাওয়া যায়। ওই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
শহরের শমশেরনগর রোডের আনন্দ বেকারিতে রং দিয়ে খাবার তৈরি করা হচ্ছে দীর্ঘ দিন ধরে। এছাড়া পুরনো বিস্কুটের গুঁড়া দিয়ে পুনরায় বিস্কিট তৈরী করা হয়। এর দায়ে এই প্রতিষ্ঠানটিকেও ১ লক্ষ বিশ হাজার টাকা জরিমানা করা
হয়েছে। সর্বশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয় শমশেরনগর রোডের স্বাদ এন্ড কো; এর কারখানায় সেখানে খাদ্যে রং মেশানো এবং অসাস্থকর পরিবেশে খাবার সামগ্রী তৈরির দায়ে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা করেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
আক্তারুজ্জামান।
অভিযান পরিচালনা শেষে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আক্তারুজ্জামান জানান আমরা অভিযান পরিচালনা করার সময় খাদ্য দ্রব্যে ভেজাল মেশানো বিভিন্ন ক্ষতিকারক রং এবং অসাস্থ্যকর পরিবেশ পাওয়ার প্রেক্ষিতে এইসব প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এই অভিযান সারা দেশে চলমান থাকবে।
