বিলুপ্তির শঙ্কায় ইইউ

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:৫৯ পিএম

ব্রেক্সিট নিয়ে যুক্তরাজ্যের জটিলতা এখনো কমেনি। চলতি বছরের শুরুতে ব্রেক্সিট হলেও এখনো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য চুক্তি হয়নি। আর বাণিজ্য চুক্তি না হলে যুক্তরাজ্যকে চড়া মূল্য চুকাতে হবে। কিন্তু বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ব্রেক্সিট ও পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের। এই ক্ষতির ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভেঙে যেতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যুক্তরাজ্য চলে যাওয়ার পর ইউরোপে অর্থ ও সমরাস্ত্রের দিক দিয়ে শক্তিশালী দেশ থাকবে জার্মানি ও ফ্রান্স। আর এই দুই দেশ নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় এর আগেও একাধিকবার ইউনিয়নের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছে। ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে যাওয়ার পর ইউনিয়ন চালাতে সবচেয়ে বেশি অর্থ দিতে হবে এই দুই দেশকেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই দুই দেশে ইউনিয়নের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে রাজি নয়। ফলে ইউনিয়নের বর্তমান ২৭ সদস্য গভীর সংকটের মধ্যে আছে। ব্রেক্সিটের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের মুখোশ উন্মোচিত হয়ে গেছে, যা দীর্ঘ বছর ধরে তারা লালন করে আসছে।

গত জুলাইয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রের নেতারা এক ম্যারাথন বৈঠকে বসেছিলেন। সেই বৈঠকে করোনাভাইরাস বিষয়টি খুব গুরুত্ব পায়। করোনা পরবর্তী বাস্তব পরিস্থিতি সামলাতে বিশাল অংকের অর্থ ধারের প্রসঙ্গটি আসে বৈঠকে। কিন্তু ইউনিয়নভুক্ত কোনো দেশই ধার কীভাবে নেওয়া হবে এবং তা ফেরতই কীভাবে দেওয়া হবে সে বিষয়ে কোনো আলোকপাত করেনি। এক পর্যায়ে বলা হয়, সবাই মিলে ধার নেবে এবং তা শোধ করবে সবাই মিলে। কিন্তু তখন বেঁকে বসে নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া, ফিনল্যান্ড ও সুইডেন। কারণ এই দেশগুলোর অর্থনীতি মূলত ব্রিটিশ অর্থনীতি নির্ভর।

ফরাসি অধ্যাপক রবার্ট ফ্রাঙ্ক এএফপিকে বলেন, ‘ব্রিটিশদের সঙ্গে আমরা এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতেও পারি না। কারণ তারা সোজা না বলে দেবে।’ ইউরোপিয়ান পলিসি সেন্টারের ফেলো অ্যান্ড্রু ডাফ বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য একটি সাধারণ রাজস্বনীতি ঠিক করার কাজ চলছে। এমন নীতি যে করতে হবে তা আগে কখনো ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভাবেনি।’

বাজার অর্থনীতিতেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বড় সমস্যায় পড়তে যাচ্ছে। কারণ ব্রেক্সিটের কারণে লন্ডনের সঙ্গে বার্লিন ও প্যারিসের স্বাভাবিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে। এখন আর তারা মিত্র নয়। ফলে জার্মানি ও ফ্রান্স দেশের বাইরে ব্যবসা করতে গেলে আগের চেয়ে বেশি কর দিতে হবে, যা এতদিন দিতে হতো না যুক্তরাজ্যের কারণে। ফ্রান্স ও জার্মানির পেছনে শক্তি হিসেবে আছে ইতালি ও স্পেন। কিন্তু ওই দুই দেশের অর্থনীতির অবস্থাও সুবিধার নয়। নেদারল্যান্ডস ও ডেনমার্ক যদি নিজেদের পিঠ বাঁচাতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে নতুন চুক্তিতে আবদ্ধ হয়, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতি উপেক্ষিত হবে। এমনটা হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভেঙে যেতে খুব বেশিদিন লাগবে না।

অর্থনীতির পরেই সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রশ্নে। ব্রেক্সিটের কারণে ন্যাটো থেকে বের হয়ে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। আর লন্ডন না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রও ন্যাটোতে তহবিল দিতে চাইছে না। ফলে ন্যাটোর বিশাল বহরের তহবিল মেটাতে ইউনিয়নভুক্ত ২৭ দেশকেই অর্থ দিতে হবে। শুধু তাই নয়, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও মেরুকরণ হতে যাচ্ছে। কারণ এই পরিষদের সদস্য ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য উভয়েই। ইউনিয়ন ত্যাগের বিরোধিতা নিরাপত্তা পরিষদেও প্রভাব ফেলবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত