করোনা আক্রান্ত স্বামীর মৃত্যুর ৪ ঘণ্টা পর মারা গেলেন স্ত্রী

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:২৬ পিএম

করোনা আক্রান্ত স্বামীর মৃত্যুর ৪ ঘণ্টা পর তার স্ত্রীও মারা গেছেন। তারা শেরপুর শহরের মাধবপুর এলাকার বাসিন্দা। জানা গেছে, কিডনি ও শ্বাসকষ্ট জটিলতায় ২৮ নভেম্বর রাজধানী ঢাকার কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি হন ব্যবসায়ী রফিকুর রহমান (৬৩)। পরে তার করোনা শনাক্ত (কভিড-১৯) হলে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়। বুধবার ভোর ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে।

এ নিয়ে জেলায় করোনায় ১২জনের মৃত্যু হলো।

এদিকে শ্বাসকষ্টের জটিলতায় চার দিন ধরে রফিকুর রহমানের স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন (৫২) শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মঙ্গলবার করোনা পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বুধবার তার অবস্থার অবনতি হলে সকাল ১০টার দিকে জেলা হাসপাতাল থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে নেয়ার জন্য তাকে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠানো হয়। এ সময় স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ তাকে জানানো না হলে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠানোর পরই তার মৃত্যু হয়।

তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। রফিকুর-আম্বিয়া দম্পতির মৃত্যুতে শহরজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিকেলে স্বামী-স্ত্রীর লাশ বাড়ির আঙিনায় রাখা হলে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। দুই সন্তান, পরিবারের সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষীদের কান্না আহাজারিতে সেখানকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

রফিকুর রহমান ছিলেন শেরপুরের সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক প্রয়াত পণ্ডিত ফসিহুর রহমানের দ্বিতীয় ছেলে এবং শেরপুর প্রেসক্লাব সভাপতি শরিফুর রহমানের বড় ভাই।

তাদের মৃত্যুতে হুইপ আতিউর রহমান আতিক এমপি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান, পৌর মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন, শেরপুর প্রেসক্লাব, সাংবাদিক বিপ্লবী রবি নিয়োগী সভাকক্ষ পরিচালনা পর্ষদ, শেরপুর টাইমস পরিবার, শেরপুর ইয়ুথ রিপোর্টার্স ক্লাব গভীর শোক প্রকাশ করে।

রাতে শেরপুর শহরের তেরাবাজার জামিয়া সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসা মাঠ নামাজে জানাজা শেষে চাপাতলি পৌর কবরস্থানে দু’জনের লাশ দাফন করা হবে বলে জানায় তাদের পরিবার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত