পাবনায় দোগাছি ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বকুল শেখ হত্যার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন এলাকাবাসী।
শনিবার সকালে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।
কয়েক হাজার নারী-পুরুষের এ বিক্ষোভ মিছিল শেষে শহরের আব্দুল হামিদ সড়কের এক পথসভায় বক্তারা হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
পথসভায় জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আহাদ বাবু, দোগাছি ইউপি চেয়ারম্যান আলী হাসান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রাসেল আলী মাসুদ ।
নিহত বকুলের বন্ধু ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আলতাফ হোসেন ও শহিদুর রহমান জানান, চাঁদা তোলা বন্ধ করে দেওয়ায় জামায়াত নেতা মোখলেস প্রামাণিক, রানা, ডালিমসহ একদল সন্ত্রাসী শুক্রবার সন্ধ্যায় কৌশলে বকুলকে অনন্ত মোড় এলাকায় ডেকে নেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। তাদের সামনেই তারা বকুলকে হত্যা করে চলে যায়। পুলিশ তাদের আটক না করে উল্টো আমাদের উপরই চড়াও হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, অনন্ত মোড় স্ট্যান্ডসহ পাবনার সকল অটোরিকশা স্ট্যান্ডে পুলিশের প্রশ্রয়ে চাঁদাবাজি হয়। তারা নিয়মিত মাসোহারা নেয়। এ কারণে তারা চাঁদাবাজদের পক্ষ নিয়ে, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করছে না।
দোগাছী ইউপি চেয়ারম্যান আলী হাসান বলেন, বকুল শেখ আমাদের ইউনিয়নের জনপ্রিয় সদস্য। তাকে জামায়াত ও বিএনপির সন্ত্রাসীরা যেভাবে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে, তা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার না হলে আমরা তীব্র আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।
পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আহাদ বাবু বলেন, এলাকাবাসীর স্বার্থে অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় বকুল শেখকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করি। চিহ্নিত হত্যাকারীদের পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারছে না। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে যে কোন পরিস্থিতির দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।
এদিকে, বকুল শেখ হত্যার ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিক্ষুব্ধরা শনিবার দুপুরে অনন্ত বাজার এলাকায় বেশ কয়েকটি দোকান পাটও ভাঙচুর করে।
তবে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের প্রশ্রয় দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেলা পুলিশ।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই এ ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে। পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে তদন্তে সহযোগিতার জন্য বকুলের সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রসঙ্গত, পাবনা শহরের অনন্ত মোড়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারি চালিত অটোবাইকের চাঁদা তোলায় বাধা দেওয়ায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী মোখলেস প্রামাণিক ও তার ভাই রানা। এতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হওয়ায় এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সম্প্রতি চাঁদাবাজি বন্ধ করে অটোস্ট্যান্ড তুলে দেন দোগাছি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বকুল শেখ।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় তারা দলবল নিয়ে হামলা করে বকুলকে প্রকাশ্যে গুলি করে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
