ধর্মীয় বক্তার যোগ্যতা

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:০৪ পিএম

আল্লাহতায়ালা মুসলিম উম্মাহকে শ্রেষ্ঠ জাতির মর্যাদা দিয়েছেন। মানুষের কল্যাণে তারা কাজ করবে সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজে নিষেধ করবে। এখানেই মানুৃেষর শ্রেষ্ঠত্ব। মানুষকে সত্যের পথে আহ্বান করা এবং তার কর্ণকুহরে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া মানুষেরই দায়িত্ব। তাই একদল মানুষের জন্য দাওয়াতের কাজ করা অপরিহার্য। দাওয়াতের ভাষা হবে কোমল; প্রজ্ঞাপূর্ণ। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহ্বান করো প্রজ্ঞা ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সঙ্গে বিতর্ক করো সুন্দর পন্থায়।’ (সুরা নাহল, আয়াত : ১২৫) প্রজ্ঞার সঙ্গে দাওয়াতের কাজ সম্পাদন করার জন্য একজন দাঈ বা ধর্মীয় বক্তার বেশ কিছু যোগ্যতা থাকা আবশ্যক।

আল্লাহভীতি

দাঈর প্রধান গুণ হলো মুত্তাকি হওয়া। আল্লাহকে ভয় করা। এছাড়া কোনো মানুষের জন্য সত্যের ওপর টিকে থাকা সম্ভব নয় অন্যকে হকের পথে ডাকা তো অনেক দূরের বিষয়। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই আল্লাহকে ভয় করে। নিশ্চয় আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল।’ (সুরা ফাতির, আয়াত : ২৮)

পর্যাপ্ত জ্ঞান

ইসলামের মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দাঈর অবশ্যই পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকতে হবে। ধর্মের জ্ঞান অর্জন না করে কেউ যদি উম্মতের পথপ্রদর্শক হয়ে যান, তবে এর মাধ্যমে জাতি বিভ্রান্ত হবেই কোনো সন্দেহ নেই। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘...তিনি (আল্লাহ) এর (কোরআনের) মাধ্যমে অনেককে পথভ্রষ্ট করেন এবং এ দিয়ে অনেককে হেদায়ত দেন। আর এর মাধ্যমে কেবল ফাসেকদেরই পথভ্রষ্ট করেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৬)

সত্যবাদিতা

যিনি আল্লাহর পথে মানুষকে আহ্বান করবেন, তাকে অবশ্যই সত্যবাদী হতে হবে। নতুবা তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবেন না। বক্তাদের সত্যবাদী হওয়ার অর্থ হলো তিনি বানোয়াট কথা ও কোরআন-হাদিসের নামে মিথ্যাচার করবেন না। পবিত্র কোরআনে মানুষকে সত্যবাদীদের সঙ্গী হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ১১৯)

সহনশীলতা

ধৈর্য ও সহনশীলতা মহৎ গুণ। আল্লাহর পথের আহ্বানকারীদের এই গুণে গুণান্বিত হতে হবে। নতুবা দাওয়াতের কাজে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে না। আল্লাহর রাস্তায় দাওয়াত দিতে গেলে অনেক বিপদ আসতে পারে, সেক্ষেত্রে ধৈর্যের সঙ্গে তা মোকাবিলা করতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘সুসংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের যাদের ওপর কোনো বিপদ আসলে বলে, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তার দিকেই আমরা ফিরে যাব।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৫৫-১৫৬)

কোমলতা

ভদ্রতা, কোমলতা ও মার্জিত আচরণ আদর্শ দাঈর বৈশিষ্ট্য। এ গুণের অধিকারী দাঈরা দাওয়াতি কাজে সহজে মানুষের মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারেন। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে কোমলতা অর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফেরাউনের সঙ্গে কোমল আচরণের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহতায়ালা মুসা ও হারুন (আ.)-এর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমরা উভয়ে ফেরাউনের কাছে যাও, নিশ্চয়ই সে সীমালঙ্ঘন করেছে। অতঃপর তার সঙ্গে নম্র ভাষায় কথা বলো। সম্ভবত সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভীত হবে।’ (সুরা তোয়াহা, আয়াত : ৪৩-৪৪)

রাসুল (সা.)-কে আল্লাহ বলেন, ‘আর আল্লাহর রহমতে তুমি তাদের প্রতি কোমল-হৃদয় হয়েছো। যদি তুমি কর্কশভাষী ও কঠোর হৃদয়ের অধিকারী হতে, তাহলে তারা তোমার পাশ থেকে সরে যেত। কাজেই তুমি তাদের ক্ষমা করে দাও এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো। আর তাদের সঙ্গে পরামর্শ করো। অতঃপর যখন তুমি সংকল্পবদ্ধ হবে তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তার ওপর ভরসাকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৫৯)

নিষ্ঠা

একনিষ্ঠতা ছাড়া কখনো দাওয়াতি কাজে সফলতা আসবে না। ইখলাস বা একনিষ্ঠতা হলো স্রেফ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কাজ করা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘বলো, আমি নিষ্ঠার সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ১১)

কথা-কাজে মিল

কথা ও কাজে মিল থাকা দাওয়াতে সার্থক হওয়ার সোপান। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনরা, তোমরা এমন কথা কেন বলো যা নিজেরা করো না? তোমরা যা করো না, তা বলা আল্লাহর দৃষ্টিতে অতিশয় অসন্তোষজনক।’ (সুরা সফ, আয়াত : ২-৩)

রাসুল (সা.) বলেন, ‘কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে। তারপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এতে তার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যাবে। আর সে তা নিয়ে ঘুরতে থাকবে যেমনভাবে গাধা আটা পিষা জাঁতার সঙ্গে ঘুরতে থাকে। জাহান্নামিরা তার কাছে একত্র হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করবে, আপনি কি আমাদের ভালো কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজের নিষেধ করতেন না? সে বলবে, হ্যাঁ। আমি তোমাদের ভালো কাজের আদেশ করতাম; কিন্তু নিজে আমল করতাম না। আর খারাপ কাজ থেকে তোমাদের নিষেধ করতাম; কিন্তু আমি নিজেই তা করতাম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩২৬৭)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত