পুরান ঢাকার চকবাজারে নোয়াখালী ভবনে আগুন নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য মিলেছে। কেউ বলছেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। কেউ বলছেন, জমি ও ভবন নিয়ে বিরোধের জের ধরে কোনো পক্ষ আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। রাসায়নিকের কারণেও আগুনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
এদিকে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো ব্যবসায়ী এখনো এই বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করেননি। এই বিষয়টিও রহস্যজনক। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সবগুলো বিষয় নিয়েই তদন্ত করছে।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে আগুন লাগে ওই ভবনে। প্রায় ৫ ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ১৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে ওই ভবনের ৩০ থেকে ৪০টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আতঙ্কে আশপাশের এলাকার লোকজন বাসার নিচে নেমে নির্ঘুম রাত কাটান। নিমতলী, চুড়িহাট্টার পর ফের একই জায়গায় আগুনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।
তারা জানান, ওই ভবনে গত ৬ বছরে অন্তত চারবার আগুন লাগে। তারপরও কর্তৃপক্ষ এখান থেকে রাসায়নিক গুদাম কিংবা দাহ্য প্লাস্টিকের দোকান সরাতে পারেনি।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক দেবাশীষ বর্ধন দেশ রূপান্তরকে বলেন, জমি ও ভবন নিয়ে বিরোধের জের ধরে আগুন ধরিয়ে দিতে পারে। আবার কেমিক্যাল কিংবা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেও আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। আমরা সবগুলো বিষয় নিয়েই তদন্ত করছি।
তিনি আরও বলেন, অনেক আগেই এই ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। গতকালও ফের পরিত্যক্ত ঘোষণা করে চকবাজার থানা পুলিশের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
ভবনটির আগের মালিকের নাম হাবিবুর রহমান। তার সঙ্গে রাসায়নিক ব্যবসায়ী অনেকের সঙ্গেই দ্বন্দ্ব রয়েছে। সেই দ্বন্দ্বের জের ধরে প্রভাবশালী লোকজন ভবনটি বেদখল করে প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন রাসায়নিকের দোকান ভাড়া দিয়েছিলেন।
চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কবির হাওলাদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। তবে বিষয়টি তদন্ত করছে ফায়ার সার্ভিস। তাদের প্রতিবেদনে যে তথ্য পাওয়া যাবে পরবর্তী সময়ে সেই মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চকবাজার থানার ওসি মওদুদ হোসেন বলেন, আগুন লাগার পর কোনো মালিকই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরাও অভিযোগ করেননি।
