ছয় কোটি ২৪ লাখ ১৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের বিরুদ্ধে তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
৪ আগস্ট দুদক ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ-পরিচালক শাহীন আরা মমতাজ বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।
নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক (পরে বহিষ্কার) শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমানকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, ২ লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল নোট, ১১ হাজার ৪৮১ ডলার, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের কিছু মুদ্রা এবং দুটি ডেবিট কার্ড জব্দ করা হয়। এরপর রাজধানীর ইন্দিরা রোডে পাপিয়ার ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ২০টি গুলি, পাঁচ বোতল বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট-ডেবিট কার্ড উদ্ধার ও জব্দ করে র্যাব।
র্যাব তখন জানায়, পাপিয়া গুলশানের ‘ওয়েস্টিন হোটেলে’ রুম ভাড়া নিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিলেন এবং ওই হোটেলে কোটি টাকার বেশি বিল দিতেন। এসব ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় ওঠে।
পাপিয়া ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে আলাদা মামলা করে র্যাব। এ ছাড়া বিশেষ ক্ষমতা আইনে বিমানবন্দর থানায় একটি এবং মুদ্রাপাচার প্রতিরোধ আইনে আরও একটি মামলা হয় এই দম্পতির বিরুদ্ধে। অস্ত্র আইনের মামলায় গত ২৯ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলে ২৩ আগস্ট অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ১২ জন সাক্ষী আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন।
১২ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলায় ২০ বছরের কারাদন্ডের আদেশ দেন।
এছাড়া অস্ত্র আইনের আরেক ধারায় তাদের সাত বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
