পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল গুমের রহস্য ভেদ করে তা কমানো। কিন্তু তিনি ক্ষমতায় বসার পর গুমের সংখ্যা কমার বদলে আগের চেয়ে বেড়েছে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর ছত্রছায়ায় থাকা বিভিন্ন এজেন্সির হাতে বহু মানুষ বিচারবহির্ভূত অপহরণের শিকার হচ্ছেন বলে সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গত দুই দশক ধরে পাকিস্তানে বিচারবহির্ভূত অপহরণের ঘটনা ঘটছে। সন্ত্রাসবাদ বা জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত এমন অভিযোগে বহু মানুষকে অপহরণ করে গোপন বন্দি শিবিরে রাখা হচ্ছে। পুরো ঘটনা গোপন থাকায় অপহৃতরা পাচ্ছেন না কোনো আইনি সুবিধা। মাসের পর মাস, এমনকি বছর পেরিয়ে গেলেও মুক্তি পান না তারা। এদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজনকে মুক্তি দেওয়া হলেও অধিকাংশের কোনো হদিসই মেলে না।
কাইয়ুম পাকিস্তানের একজন সরকারি কর্মচারী। ২০১৪ সালের আগস্টে ১২ জনের একটি দল তাকে তুলে নিয়ে গোপন বন্দি শিবিরে আটকে রাখে। নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাকে যখন বন্দি শিবিরে ঢোকানো হয় তখন এক সৈনিককে আমাকে নগ্ন করতে বলা হয়। আমি তাদের কাছে দয়া ভিক্ষা চেয়েছিলাম যাতে আমাকে এভাবে অসম্মানিত করা না হয়। একপর্যায়ে মেঝেতে ফেলে আমার পাছায় চামড়ার বেল্ট দিয়ে পেটাতে শুরু করে। আমার আঙুল ভেঙে ফেলা হয়। ভাবিনি যে ওই বন্দি শিবির থেকে আমি জীবিত বের হতে পারব।’ কাইয়ুমকে যারা ধরে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক পেটায় তাদের কারও মুখ দেখেননি তিনি। গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা কোয়েটা, বেলুচিস্তান, করাচিসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছেন। কিন্তু কিছুতেই কাজ হয় না। পাকিস্তানে এই গুমের ঘটনা মূলত শুরু হয় ১৯৭০ সালের দিকে। কিন্তু ২০০১ সালের পর দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টিলিজেন্স (আইএসআই) ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর গোপন শাখাগুলো গুমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। জাতিসংঘের এক পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৮০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ১ হাজার ১৪৪টি নিখোঁজের ঘটনা পাকিস্তানের বিভিন্ন থানায় রিপোর্ট করা হয়। এদের মধ্যে ৭৩১ জনের কোনো সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। অন্য মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, রিপোর্ট হওয়া গুমের ঘটনার চেয়ে এর বাস্তব সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি।
