চ্যালেঞ্জের মুখে ব্যক্তি ট্রাম্প

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:১৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জনপ্রিয় ভোটে আগেই হেরেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে তিনি বারবার ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন, করে যাচ্ছেন এখনো। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালতের পাশাপাশি তিনি দ্বারস্থ হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টেরও। কিন্তু সব আদালতই তার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। সর্বশেষ গত সোমবার ইলেকটোরাল কলেজ ভোটেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট জো বাইডেন। এই অবস্থায় আগামী ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন জো বাইডেন। আর ক্ষমতা হারানো ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিরবেন তার সাধারণ ব্যক্তিগত জীবনে। তবে পরাজয় নিশ্চিত জেনেও ভোটের পর থেকে ট্রাম্প যা যা করেছেন বা বলেছেন তা দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন অন্যসব সাবেক প্রেসিডেন্টের মতো হোয়াইট হাউজ ছেড়েই অন্ধকারে হারিয়ে যাবেন না। সাদা বাড়ি ছাড়ার পর ট্রাম্প কী কী করবেন তা নিয়েই এখন চলছে জল্পনা-কল্পনা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হোয়াইট হাউজ ছাড়ার পর ট্রাম্প ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামার প্রস্তুতি শুরু করে দিতে পারেন দলের ভেতরে। ট্রাম্প মন দিতে পারেন মিডিয়ায় নতুন কোনো কর্মকাণ্ডে। এ ছাড়া তার বিশাল ব্যবসা সামলানোর কাজেও মন দিতে পারেন পরের সময়গুলোতে। কিন্তু আশঙ্কার কথা হচ্ছে ট্রাম্পের এইসব সম্ভাবনাকেই আড়ালে নিয়ে যেতে পারে তার বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা না অভিযোগ।

তার পারিবারিক ব্যবসা ও প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে করা বেশ কিছু কর্মকান্ড সংক্রান্ত একাধিক দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউজের দৌড়ে আরেকবার নামার কথা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে এক্ষেত্রে তাকে অবশ্যই আগামী নির্বাচনে লড়তে ইচ্ছুক মাইক পেন্স, নিকি হ্যালি, মাইক রুবিও ও টম কটনের মতো রিপাবলিকানদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। ট্রাম্প অবশ্য এরই মধ্যে একটি ‘পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি’ গঠন করেছেন, যা তাকে অন্য প্রার্থীদের চাইতে দলের ভেতরে কিছুটা এগিয়ে রাখবে।

এদিকে রিয়েলিটি সিরিজ ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’র সাবেক তারকা ট্রাম্প হোয়াইট হাউজ ছাড়ার পর নতুন কিছু নিয়ে গণমাধ্যম জগতে ফেরার কথা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছেন বলে তার উপদেষ্টারা জানিয়েছেন। নতুন একটি টিভি চ্যানেল বা সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিও খোলার পরিকল্পনা আছে তার।

অবশ্য এত কিছু করার আগে ট্রাম্পকে আর্থিক সঙ্গতির বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। ট্রাম্পের মোট সম্পদের পরিমাণ আগের বছরের চেয়ে ৬০ কোটি ডলার কমে ২৫০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।

এইসব চ্যালেঞ্জের বাইরেও বেশ কিছু আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে পারেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকাকালে আইনি সুরক্ষার সুবিধা পেলেও হোয়াইট হাউজের দায়িত্ব ছাড়ার পর ওই সুরক্ষার সুযোগ আর নিতে পারবেন না ট্রাম্প।

ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি সাইরাস ভেন্স ট্রাম্পের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়ানোর দাবি করা দুই নারীর মুখ বন্ধ রাখতে ট্রাম্প বেআইনিভাবে টাকা খরচ করেছেন কি-না তা খতিয়ে দেখছেন। অ্যাটর্নি সাইরাস ভেন্স ট্রাম্পের কর ও বীমা জালিয়াতি এবং ব্যবসায়িক নথি জালিয়াতি নিয়েও তদন্ত করছেন বলে জানিয়েছেন।

এইসব অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে নিউ ইয়র্কেও। এ ছাড়া কর ফাঁকি, পারিবারিক অংশীদারকে বঞ্চিত করাসহ একাধিক অভিযোগ ঝুলছে তার মাথার ওপর।

এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে জেলে যেতে না হলেও বড় ধরনের আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে হবে বিদায়ী প্রেসিডেন্টকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত