চিলির পার্লামেন্টের ১১ শতাংশ আসন এখন থেকে দেশটির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত থাকবে। পার্লামেন্টের ১৫৫টি আসনের মধ্যে ১৭টি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার প্রতিনিধিদের জন্য সংরক্ষণে গত মঙ্গলবার একটি বিল অনুমোদন করেছেন দেশটির আইনপ্রণেতারা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, আইনপ্রণেতাদের গৃহীত ওই পদক্ষেপের ফলে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে প্রধান আদিবাসী সম্প্রদায়গুলোর প্রতিটির জন্য আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। নতুন এই বিলের বিষয়ে চিলির সামাজিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী কার্লা রুবিলার বলেন, সর্বসম্মত ভোটের জন্য কংগ্রেস ও সিনেটকে আমরা ধন্যবাদ জানাতে চাই। আদিবাসীদের স্বীকৃতিতে এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।
তিনি এই পদক্ষেপকে ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরার সরকারের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এর আগে গত অক্টোবরে এক ভোটাভুটিতে চিলির সংবিধান সংশোধনের পক্ষে বিপুলভাবে সমর্থন জানান দেশটির জনগণ। নতুন সংবিধানে স্বাস্থ্য, পেনশন ও শিক্ষা খাতে আরও বেশি সমতা প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তারা। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিরাজমান বৈষম্যের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে দেশটিতে যে গণবিক্ষোভ হয়েছিল, তার প্রধান দাবি ছিল সংবিধান পুনঃলিখন নিয়ে ওই ভোটের আয়োজন।
বেশিরভাগ ভোটার বলেছেন, তারা চান বিশেষভাবে নির্বাচিত নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিনিধি পর্ষদ যেন নতুন সংবিধানের খসড়া তৈরি করে এবং সেখানে নারী ও পুরুষ সদস্যদের সমান অংশগ্রহণ থাকবে। সংবিধান পুনঃলিখনে আগামী এপ্রিলে ওই প্রতিনিধি পর্ষদ নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংবিধানের নতুন খসড়ার বিষয়ে একমত হতে এক বছরের মতো সময় পাবে পর্ষদ। পর্ষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনের ভিত্তিতে খসড়া অনুমোদিত হবে। এরপর এই খসড়া গ্রহণ করবেন, নাকি আগের সংবিধানেই থাকবেন, সে বিষয়ে সাধারণ জনগণ আবার ভোটে অংশ নেবেন।
