শৈত্য প্রবাহে নীলফামারীতে নামছে তাপমাত্রা

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:০০ পিএম

মৃদু শৈত্য প্রবাহ বইছে উত্তরের জেলা নীলফামারীতে। শিরশির হিমেল বাতাসে কাবু হয়ে পড়েছে জেলার জনজীবন। শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। 

এদিকে শীত বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতাল গুলোতে বৃদ্ধি পেয়েছে শীত জণিত রোগির সংখ্যা। নিউমনিয়া, ডায়রিয়াসহ শীতজণিত রোগ নিয়ে নীলফামারী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা ভর্তি হচ্ছে রোগিরা। এদের মধ্যে শিশু রোগির সংখ্যা বেশি।

শুক্রবার জেলার ডিমলা উপজেলায় সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সৈয়দপুর উপজেলায় সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে যা গত দুই দিনের তুলানায় ২ থেকে ৩ ডিগ্রি কম বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট আবহাওয়া দপ্তর। 

শুক্রবার সকালে সূর্যের তাপ থাকলেও শিরশির হিমশীতল বাতাস বইয়ে যাওয়ায় কাবু হয়ে পড়ে জেলাবাসী। শীতের তীব্রতা কমাতে দিনের বেলাতেও খড়কুটোয় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করতে দেখা গেছে মানুষজনকে। 

নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নের কচুকাটা গ্রামের কৃষি শ্রমিক মিঠু মিয়া (৫৫) বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরি সন্ধ্যার পর থাকি সকাল পর্যন্ত ঘুন কুয়াশায় কোন কিছু দেখা যায় না। রাতে বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়েছে। কুয়াশার সাথে কনকনে ঠাণ্ডাত জমিতে কাজ করির পারিছি না।’

অপর দিকে, মধ্য রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে গোটা জেলা। দূর্ঘটনা এড়াতে হেড লাইট জ্বালিয়ে সড়কে চলাচল করছে ছোট-বড় যানবাহন। 

এ সময় নৈশ্য কোচ নাবিল পরিবহনের চালক আব্দুল খালেক বলেন, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ টায় ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে শুক্রবার সকাল ৮টায় নীলফামারী এসেছি। ঘন কুয়াশার কারণে রাস্তায় কিছু দেখা যায় না, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. জাকিয়া সুলতানা জানান, শীতের তীব্রতা যতই বাড়ছে, হাসপাতালে শীতজণিত রোগির সংখ্যা ততই বাড়ছে প্রতিদিন। গড়ে প্রতিদিন ইনডোর ও আউটডোরে চার থেকে পাঁচশত রোগিকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে শিশু রোগির সংখ্যায় বেশি। তারা কোল্ড ডায়রিয়া, ডায়রিয়া নিউমনিয়া আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছেন।

ডিমলা আবহাওয়া দপ্তরের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মো. মাহমুদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে জেলার উপর দিয়ে মৃদ্যু শৈত্য প্রবাহ বইয়ে যাচ্ছে। এতে করে তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে। এই মৃদু শৈত্য প্রবাহ আরো কয়েক দিন স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি মাসে আরো দুই থেকে তিনটি মৃদু শৈত্য প্রবাহ বইয়ে যাওয়ার পূর্ভাবাস রয়েছে। 

শুক্রবার জেলার ডিমলা উপজেলায় সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যা বৃহস্পতিবারের চেয়ে ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম।

অপর দিকে, সৈয়দপুর বিমান বন্দর আবহাওয়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লোকমান হাকীম বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে জেলায় তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। শুক্রবার সৈয়দপুর উপজেলায় সর্ব নিম্ন ১০ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যা গতকালের থেকে ১ ডিগ্রি কম। বৃহস্পতিবার থেকে তাপমাত্রা হ্রাস  পেতে শুরু করেছে। তাপমাত্রা আরো কমে যাওয়া সম্ভাবনা রয়েছে, তবে সূর্য উঠার সাথে সাথে শীতের তীব্রতা কমবে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে জেলার উপর দিয়ে মাঝারী শৈত্যপ্রবাহ বইয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত