বিরামপুরে ‌‍`কুমড়ো বড়ি' তৈরীর ধুম

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:৪৮ পিএম

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রাম। সেই গ্রামের কম বেশি প্রায় সব বাড়িতেই চলছে ‘কুমড়ো বড়ি’ তৈরীর ধুম। বাড়ির আঙ্গিনা এবং আশপাশে মাচায় মাচায় শোভা পাচ্ছে কুমড়ো বড়ি।

স্বাদে ও গুণে ভালো হওয়ায় দিন দিন বেড়েই চলেছে এ গ্রামের বড়ির চাহিদা। বাড়তি আয়ের পথ তৈরী হওয়ায় অন্যান্য পেশার পাশাপাশি  নারীসহ ব্যাপক কর্মসংস্থান হয়েছে বড়ি তৈরীতে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিশ্বনাথপুর গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ সকলেই বড়ি তৈরীতে ব্যস্ত। কেউবা মেশিনে কালাই ভাঙছেন, কেউবা কালাই সানছেন, কেউবা মাচায় বড়ি সাজাচ্ছেন, কেউবা  রৌদ্র বড়ি শুকানোয় ব্যস্ত।

গ্রামের কাওসার আলী জানান, প্রথমে যাতায় মাসকালাই ভাঙানো হয়। এরপর কুলো দিয়ে ঝাড়ার পর তিন ঘন্টা পরিমাণ কালাইগুলো ভিজে রাখতে হয়। এরপর আবারো ভেজা কালাইগুলো ঘুষে কালাইয়ের কালো আবরণগুলো আলাদা করা হয়। সেই কালাইগুলোকে আবারো সারারাত ভিজে রাখা হয়। সকালে কালাইগুলো মেশিনে দিয়ে খামির করা হয়। এরপর সেই খামিরে পর্যাপ্ত পানি দিয়ে পরিমান মতো বড়ি বাঁশের তৈরী মাচায় সাজানো হয়। সেই বড়িগুলো দুই দিন রৌদ্রে শুকানোর পর খাবার উপযোগী হয়।

প্রতি কেজি কালাইয়ে ৭০০ গ্রাম বড়ি তৈরী হয়। প্রতি কেজি বড়ি প্রকার ভেদে ২শ টাকা থেকে ৩শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

কাওসার আলী জানান, তিনি তার স্ত্রী এবং ছেলে এই তিনজন মিলে প্রতিদিন দশ কেজি পরিমাণ বড়ি তৈরী করতে পারেন।

দুলাল চন্দ্র রায় জানান, বংশ পরম্পরায় তারা এই বড়ি তৈরী করে আসছেন। প্রতিদিন  কমপক্ষে ৪০ কেজি বড়ি তৈরী করেন তারা। আসলে এই বড়িকে কুমড়োর বড়ি বললে এটি মূলতো মাসকালাইয়ের বড়ি। দামের তারতম্য অনুযায়ী মটরকালাইও ব্যবহার করা হয়। যে বড়িতে শুধুমাত্র মাসকালাই এবং চালকুমড়া ব্যবহার করা হয় সেই বড়ি প্রতি কেজি ৩শ টাকা দরে বিক্রি হয়। যে বড়িতে মটরকালাই ব্যবহার করা হয় সেই বড়ি ২শ টাকা থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়। বিরামপুর ছাড়াও ফুলবাড়ি, দিনাজপুর, হিলি, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ক্রেতারা তাঁদের গ্রামে বাড়ি কিনতে আসেন।

কৃষ্ণ বালা জানান, বছরের অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি থেকে মূলত বড়ি তৈরীর কাজ শুরু হয়। চলে ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত। বছরের এ সময় বড়ি তৈরী করে পরিবারে ভালোই  বাড়তি আয় হয়।

শ্রী অধির রায় জানান, স্ত্রী এবং দুই মেয়ে নিয়ে তার সংসার। আগে শুধুই কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। এতে তার সংসার চলতো না। বাড়তি আয়ের আশায়  গত ১০ বছর আগে তিনি বড়ি তৈরীর কাজ শুরু করেন। এতে তার পরিবারে ভালোই আয় আসতে শুরু করে। তিনি জানান, প্রতি কেজি বড়ি বিক্রি করে তাদের ৩০ থেকে ৪০ টাকা আয় হয়।

পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়ী উপজেলার শ্রী বিপ্লব রায় জানান, দীর্ঘদিন থেকে তারা বিশ্বনাথপুর গ্রাম থেকে পাইকারি বাড়ি কিনে নিয়ে যান। বিশ্বনাথপুর গ্রামের বড়ির স্বাদ ভালো হওয়ায় চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে।   

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিকছন চন্দ্র পাল জানান, বিশ্বনাথপুর গ্রামের বড়ি স্বাদে গুণে ভালো হওয়ায় চাহিদা ও কদর বেড়েই চলেছে। ওই গ্রামের অনেকেই অন্যান্য পেশার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের আশায় বড়ি তৈরীর কাজ করছেন। এতে করে বছরের অর্ধেক সময় বড়ি তৈরীকে কেন্দ্র করে ব্যপক কর্মসংস্থান হচ্ছে। বিশ্বনাথপুর গ্রামের বড়িকে জনপ্রিয় করতে কৃষি বিভাগ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত