দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নতুন রোগী শনাক্ত কমেছে। গত এক সপ্তাহে আগের সপ্তাহ থেকে প্রায় তিন হাজার রোগী কম শনাক্ত হয়েছে। তবে এই এক সপ্তাহে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শেষ এক সপ্তাহে (১৩-১৯ ডিসেম্বর) সাড়ে ১০ হাজারের বেশি পরীক্ষায় ১৩ হাজার ২৯৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আর আগের সপ্তাহে প্রায় সমপরিমাণ পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছিল ১০ হাজার ৩৮২ জন। অর্থাৎ শেষ সপ্তাহে নতুন শনাক্ত কমেছে ২১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। অন্যদিকে শেষ সপ্তাহে মৃত্যুবরণ করেছেন ২২২ জন, যা আগের সপ্তাহে ছিল ২১৩ জন। এছাড়া শেষ সপ্তাহে সুস্থ হওয়ার সংখ্যাও ব্যাপকভাবে কমেছে। আগের সপ্তাহে প্রায় ২৪ হাজার সুস্থের বিপরীতে শেষ সপ্তাহে সুস্থ হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার রোগী।
এদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ২৫ জন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। এদিন মৃতদের মধ্যে ১৫ জনই ছিল ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা এবং ২০ জনের বয়স ছিল পঞ্চাশোর্ধ। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১ হাজার ২৬৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এদিন ১২ হাজারের কিছু বেশি পরীক্ষায় ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত ও শনাক্তের হার দুটোই আগের দিনের চেয়ে বেড়েছে। এর আগে গত চার দিন শনাক্তের হার ১০ শতাংশের নিচে ছিল।
গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর ২৮৭তম দিন। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এদিন নতুন করে আরও একটি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার চালু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট ১১৩টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগারে করোনার পরীক্ষা চলছে। এ ছাড়া ১৮টি জিন-এক্সপার্ট ও ২৯টি র্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষাগারেও নমুনা পরীক্ষা চলমান রয়েছে। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১২ হাজার ৫টি নমুনা সংগৃহীত হয়। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয় ১২ হাজার ৩০০টির। এসব পরীক্ষায় ১ হাজার ২৬৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ছিল ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৫ রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ৯৮৭ রোগী সুস্থ হয়েছে।
এতে বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত অ্যান্টিজেন টেস্টসহ ৩০ লাখ ৬২ হাজার ৩৬৪টি নমুনা পরীক্ষায় ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫৬০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৭ হাজার ২৪২ এবং সুস্থ হয়েছে ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৬০১ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত যত পরীক্ষা হয়েছে তার বিপরীতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৫ ও সুস্থতার হার ৮৭ দশমিক ২০ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৭ ও নারী ৮ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৫, চট্টগ্রামে ৪, খুলনা ও ময়মনসিংহে ২ জন করে এবং রাজশাহী ও রংপুরে ১ জন করে মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১৫, ৫১-৬০ বছরের ৫, ৪১-৫০ বছরের ২ এবং ৩১-৪০ বছরের ছিল ৩ জন। ২৫ জনের সবাই হাসপাতালে মারা গেছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ৫২২ ও নারী ১ হাজার ৭২০ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৬ দশমিক ২৫ ও নারী ২৩ দশমিক ৭৫ ভাগ। বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৯৫৯ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩৪৩, খুলনায় ৫১৬, রাজশাহীতে ৪২৬, রংপুরে ৩২৬, সিলেটে ২৮৩, বরিশালে ২৩১ এবং সর্বনিম্ন ১৫৮ জন মারা গেছে ময়মনসিংহ বিভাগে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৪২ রোগীকে আইসোলেশনে ও ৫৪৯ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১২ হাজার ৩৫৫ ও কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩৯ হাজার ৯৪৮ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে ১০ হাজার ৪৬০টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ৬৯৭টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ৫৬৮টি আইসিইউর মধ্যে রোগী ভর্তি ছিল ৩০১টিতে।
