ভুয়া চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-, যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও আর্থিক দন্ডের বিধান করার নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জে আর খান রবিন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন। আবেদনে আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি ও রেজিস্ট্রার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট জে আর খান রবিন জানান, বাংলাদেশ সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যসেবা একটি মৌলিক অধিকার। এ সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু কিছু ভুয়া চিকিৎসক প্রতিনিয়ত মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। সাধারণ মানুষ তাদের কাছে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এতে করে অনেক রোগীর মূল চিকিৎসা তো হচ্ছেই না, উপরন্তু শারীরিকভাবে স্থায়ী অক্ষমতাসহ মৃত্যুর মুখোমুখি হচ্ছেন। তিনি বলেন, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে নিবন্ধনকৃত একজন মেডিকেল চিকিৎসক বা ডেন্টাল চিকিৎসক বলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করলে কিংবা প্রতারণামূলকভাবে তার নাম বা পদবির সঙ্গে নিবন্ধনকৃত মর্মে কোনো শব্দ, বর্ণ বা অভিব্যক্তি ব্যবহার করেন তাহলে সংশ্লিষ্ট আইনে যে সাজার বিধান রয়েছে তা খুবই কম। এমন পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তার লক্ষ্যে বিএমডিসির প্রচলিত আইন ২৮ (৩) ও ২৯ (২) ধারা সংশোধন করে ভুয়া চিকিৎসকের সাজা ৩ বছর ও জরিমানা ১ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও আর্থিক দন্ড বাড়ানোর আর্জি জানানোর পাশাপাশি এ মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে।
জে আর খান রবিন আরও বলেন, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ (সি) ধারামতে খাদ্য ও ওষুধে ভেজালকারী এবং তা বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবন কারাদন্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু একজন ভুয়া চিকিৎসকের কারণে মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজার বিধান কেন থাকবে না।
