ভাইয়ের কোটি টাকার স্বর্ণ আত্মসাতে ছিনতাই নাটক

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:২৫ পিএম

দ্বিজেন ধর (৫০) ১৭টি স্বর্ণের বার (প্রতিটি বারের ওজন ১০ ভরি) ছোট ভাই জিতেন ধরের (৪৮) বাড়িতে রাখতে দেন। কিন্তু ঋণে জর্জরিত জিতেন এগুলো আত্মসাতের জন্য ছিনতাই নাটক সাজান। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার ও ১৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে।

শনিবার সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে ‘সূত্রহীন’ এমন একটি মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস।

তিনি জানান, বড় ভাইয়ের স্বর্ণের বারগুলো আত্মসাতে ২১ ডিসেম্বর জিতেন ধর ছিনতাই নাটক সাজালেও শেষ পর্যন্ত অনুসন্ধানে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসে। এরপর নগরীর বোয়ালিয়া থানায় দ্বিজেনের মামলায় জিতেনকে গ্রেপ্তার ও তার বাড়ি থেকে স্বর্ণগুলো উদ্ধার করা হয়। একটি বার তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দ্বিজেন ও জিতেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার জামনগর গ্রামের দ্বীনেশ ধরের ছেলে। দ্বিজেন ফেনীতে থাকেন। ২১ ডিসেম্বর তিনি সেখানকার দুটি জুয়েলার্স থেকে ১৭টি স্বর্ণের বার নিয়ে পুঠিয়ায় ছোট ভাই জিতেনের বাড়ি আসেন। তিনি জিতেনকে এগুলো রাখতে দেন। বারগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ ৭১ হাজার টাকা। ঋণগ্রস্ত জিতেন এগুলো আত্মসাতের পরিকল্পনা করেন। এ জন্য বারের পরিবর্তে তিনটি সিসার রড কাগজে স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে বারের ব্যাগে রেখে দেন। আর আসল বারগুলো অন্যত্র লুকিয়ে রাখেন। পরে জিতেন বড় ভাইকে নিয়ে রাজশাহী শহরে জুয়েলার্সের দোকানে বারগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে রওনা হন। তারা নগরীর শিরোইল এলাকায় পৌঁছামাত্র দুটি মোটরসাইকেলে আসা হ্যান্ডকাফ হাতে চারজন ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর’ পরিচয় দিয়ে জিতেনের কাছে থাকা ব্যাগ, দুজনের মুঠোফোন ও মানিব্যাগ কেড়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

আরএমপির মুখপাত্র বলেন, ছিনতাইয়ের পুরো ঘটনা জিতেনের পরিকল্পনায় ঘটে। তার নির্দেশে মিজানুর রহমান মিজান ও মৃদুল নামে দুজন পুঠিয়া থেকে বাসের পেছনে পেছনে মোটরসাইকেলে আসেন। তারা আরও তিনজনকে প্রস্তুত রাখেন। বাস থেকে নামার তথ্য তাদের জানান মিজান ও মৃদুল। এরপর শিরোইল এলাকায় ব্যাগটি ছিনতাই করা হয়।

তিনি আরও বলেন, সিসিটিভির ফুটেজ বিশেস্নষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে সূত্রহীন মামলাটির রহস্য উদ্ঘাটন করেছে বোয়ালিয়া থানা। জিতেনের সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত