নতুন ধরনের করোনাভাইরাস ব্রিটেনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সংক্রমণ এত দ্রুত বাড়ছে যে, সরকারি হিসাবেই ইংল্যান্ডে এখন প্রতি ৮৫ জনের মধ্যে একজন আক্রান্ত হচ্ছেন। গত এক সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় এক লাখের বেশি। লন্ডনে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। কিন্তু লন্ডনের স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, সংক্রমণের ভীতি বাড়লেও মানুষের মধ্যে ভ্যাকসিন গ্রহণের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। লোকজনকে ভ্যাকসিন গ্রহণের আহ্বান জানানো হলেও তেমন একটা সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
সম্প্রতি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের ওপর পরিচালিত সংক্ষিপ্ত একটি জরিপে তারা দেখেছেন, কভিড এবং এর ভ্যাকসিন নিয়ে তাদের মধ্যে নানা বিভ্রান্তি-সন্দেহ কাজ করছে। ওই জরিপের ৬৫ শতাংশই বলেছেন, ভ্যাকসিন নেবেন কি-না তা নিয়ে তারা নিশ্চিত নন। তারা অপেক্ষা করে দেখবেন। সমাজের কিছু অংশে সঠিক তথ্যপ্রবাহের দারুণ ঘাটতি রয়েছে। মানুষের ভেতরে নানা ধরনের অদ্ভুত সব ধারণা রয়েছে। অল্পশিক্ষার কারণে বিশেষ করে বয়স্করা নিজেরা খবর তেমন পড়েন না বা দেখেন না। অন্যের কাছে শোনেন এবং কান কথা বিশ্বাস করেন, নানা গুজব ঘোরাফেরা করে। তবে ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, প্রথম সপ্তাহেই ছয় লাখেরও বেশি মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বিশ্বের অনেক দেশের মতো ব্রিটেনেও মুসলিমদের একাংশের ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কভিড ভ্যাকসিন নিয়ে সন্দেহ আছে। ব্রিটিশ বোর্ড অব স্কলারস অ্যান্ড ইমামস (বিবিএসআই) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের ব্যাখ্যা দিয়ে থাকে। তারা চলতি সপ্তাহে তাদের একটি বিবৃতিতে বলেছে, কভিড ভ্যাকসিনের ধর্মীয় গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে অনেকেই তাদের কাছে প্রশ্নে করছেন।
সংগঠনটি বলছে, এসব ভ্যাকসিনে যদি হালাল কায়দায় জবাই না করা গরুর বা শূকরের কোলাজেন থেকে তৈরি জেলাটিন থাকে তাহলে তা হালাল হবে কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরও অনেক মুসলিম চাইছেন। বিবিএসআইয়ের সঙ্গে অনেক চিকিৎসকও জড়িত। তারা তাদের এক বিবৃতিতে মুসলিমদের আশ্বস্ত করেছেন যে, ফাইজার বা মডার্নার ভ্যাকসিনে কোনো জেলাটিন ব্যবহার হয়নি।
বিআইবিএমের জেনারেল সেক্রেটারি ডা. সালাম ওয়াকার বলছেন, মুসলিমরা ধর্মীয় কারণে ভ্যাকসিন নিয়ে সন্দিহান এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তুরস্কের সরকারি মিডিয়া টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে এক সাক্ষাৎকারে ডা. ওয়াকার বলেন, বিষয়টি হচ্ছে কমিউনিটিতে আস্থা আনা। তাদের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করা যেটা রাতারাতি হয় না। যে স্বাস্থ্য বিভাগ বছরের পর বছর অনেক মানুষের খোঁজই নেয় না তারা যদি হঠাৎ মানুষের দরজায় টোকা দেয় তাহলে অনেক মানুষ সন্দিহান হয়ে পড়তেই পারে।
