স্বাধীনতার ৪৯ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও স্বীকৃতি পাননি আবদুল আউয়াল ওরফে আবদুস সাত্তার শেখ। একাত্তরে চাকরি থেকে পালিয়ে গিয়ে দেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন তিনি। বর্তমানে সাত্তার শেখ চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। তবে ভাতার জন্য নয়, একজন দেশপ্রেমিক হিসেবে স্বীকৃতি চান তিনি।
পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল সাত্তার শেখ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিণ গড্ডিমারী গ্রামের প্রফেসরপাড়ায় এখন বসবাস করছেন। তার স্থায়ী ঠিকানা পাবনার সুজানগর উপজেলার (আমিনপুর থানা) ভাটিকয়া গ্রামে।
জানা গেছে, ১৯৬৬ সালে সাত্তার শেখের চাকরি হয় পুলিশের কনস্টেবল পদে। নিয়োগের পর তিনি বগুড়া পুলিশ লাইনসে যোগ দেন। সেখানে চাকরি করাকালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি পুলিশ লাইনস থেকে পালিয়ে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধ শেষে আবারও পুলিশে যোগ দেন তিনি। সর্বশেষ হাতীবান্ধা থানায় কর্মরত অবস্থায় তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন। তার ছেলেমেয়েদের এই এলাকায় বিয়ে হওয়ার সুবাদে এখানেই নতুন করে বসত গাড়েন তিনি।
সাত্তার শেখের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, অষ্টম শ্রেণি পাস করে পুলিশে যোগদান করি। সেই সময়ে ভালোই চলছিল দিনগুলো। হঠাৎ শুরু হয় যুদ্ধের দামামা। তখন নিজেকে ঠিক রাখতে না পেরে একদিন পুলিশ লাইনস থেকে পালিয়ে পাবনার গ্রামের বাড়ি চলে যাই। আর সেখানে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল গনির সহযোগিতায় গ্রামের তরুণদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করি এবং তাদের নিয়ে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। বগুড়ার আড়িয়াবাজার, পাবনা সদর, নগরবাড়ী, ডাববাগান, সুজানগরের দুলাই, ত্রিমহোনী ও নাজিরগঞ্জ এলাকাগুলোয় যুদ্ধকালে বিভিন্ন অপারেশনের কাজ করি। আমার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে আংশগ্রহণ করেন সুজানগর এলাকার মোতাহার হোসেন খলিফা, আবদুল করিম খন্দকার, তাইজ উদ্দিন, আবদুল কাদের, আবদুর রহমান, ডা. ইউসুফ প্রমুখ। তারা সবাই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু আমি আজও কোনো স্বীকৃতি পাইনি।
পাবনার সুজানগর উপজেলার (আমিনপুর থানা) সৈয়দপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল করিম খন্দকারের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আবদুল আউয়াল ওরফে আবদুস সাত্তার শেখ মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করলেও নিজ এলাকার বাইরে থাকায় তার নাম তালিকাভুক্ত হয়নি।
একই এলাকার আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন খলিফা বলেন, সাত্তার শেখ মুক্তিযুদ্ধে প্রশিক্ষক ছিলেন। চাকরি করার সুবাদে বাইরে থাকায় তার নাম তালিকায় ওঠেনি।
