মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন চা-বাগান থেকে প্রতি রাতে চুরি হচ্ছে কাঁচা চা-পাতা। সেই সঙ্গে চুরি হয়ে যাচ্ছে বাগানে ছায়াদানকারী বৃক্ষও। চুরির ফলে নারী শ্রমিকরা পাতা উত্তোলনের নিরিখ (নির্ধারিত পরিমাণ) পূরণ করতে পারছেন না। প্রতিনিয়ত রাতের অন্ধকারে কাঁচা চা-পাতা চুরির ফলে চায়ের উৎপাদনে প্রভাব পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শমসেরনগরের কানিহাটি চা-বাগানের শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন বলেন, দেওছড়া, শমসেরনগর, কানিহাটি, বাঘিছড়া ইত্যাদি বাগান থেকে দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা চা-পাতা ও মূল্যবান গাছ চুরি হচ্ছে। একজন নারী চা-শ্রমিককে প্রতিদিন গড়ে নির্ধারিত ২২ কেজি চা-পাতা উত্তোলন করতে হয়। পরেও বাড়তি চা-পাতা তোলা যায়। তবে পাতা চুরি হওয়ায় চা-শ্রমিকরা নির্ধারিত পরিমাণ চা-পাতা তুলতে পারছেন না। এসব বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতি গুনতে হবে।
চা-শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, চোরচক্র রাতের আঁধারে প্ল্যান্টেশন এলাকা থেকে কাঁচা চা-পাতা চুরি করে। তারা কাঁচি দিয়ে চা-গাছের কচি পাতা কেটে বস্তায় ভর্তি করে বাগানের বাইরে নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো করে মধ্যরাত বা ভোররাতে ট্রাক ও পিকআপযোগে পাচার করে। চোরাই কাঁচা চা-পাতাভর্তি গাড়িগুলো যায় কুলাউড়া ও রাজনগর এলাকায়। পরে সেখানকার ছোট আকারের চা-বাগানগুলোতে ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। স্থানীয় বাগানকর্তারা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসাধু লোকজন পাতা পাচার দেখেও কোনো ব্যবস্থ নেয় না, যার মাশুল গুনতে হচ্ছে শ্রমিকদের।
সম্প্রতি কমলগঞ্জের শমসেরনগর চা-বাগানের বাঘিছড়া থেকে কাঁচা চা-পাতা চুরি হলে নারী শ্রমিকরা কাজে গিয়ে সেকশনের চা-গাছে উত্তোলনযোগ্য চা-পাতা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর প্রতিবাদ জানিয়ে তারা কিছু সময় কর্মবিরতিও পালন করেন এবং বাগান ব্যবস্থাপনা কমিটিকে বিষয়টি জানান।
বাঘিছড়া চা-বাগানের এক নারী শ্রমিক বলেন, ‘সেকশনে গেলাম পাতি (পাতা) ওঠাতে। গিয়ে দেখি সেগুলো রাতেই চুরি হয়ে গেছে। এখন আমরা কোথা থেকে চা-পাতা উত্তোলন করব?’
বাঘিছড়া চা-বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি লছমন রবিদাস বলেন, বাগান থেকে কাঁচা চা-পাতা চুরি হওয়ায় নারী শ্রমিকদের নিরিখ পূরণ করা কষ্টকর হয়ে পড়ছে, এর প্রভাব তাদের রোজগারে পড়বে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চা-বাগান ব্যবস্থাপক বলেন, চা-বাগানগুলো থেকে কাঁচা পাতা ও বৃক্ষ চুরির ফলে চা উৎপাদনে প্রভাব পড়বে।
শমসেরনগর চা-বাগানের ডেপুটি ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চা-বাগানের গাছ ও কাঁচা চা-পাতা চুরির বিষয়ে শ্রমিকরা লিখিত অভিযোগ দিলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, ‘চা-বাগানগুলো থেকে কাঁচা পাতা চুরির “গুঞ্জন” শুনেছি। তবে সুনির্দিষ্ট করে কোনো চা-বাগান থেকে এখনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
