নানা সংশয় ও আতঙ্কের মধ্যে আজ সোমবার পঞ্চগড় পৌরসভায় ভোট। প্রচারণার শুরু থেকে প্রধান দুই দলের প্রার্থীর অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং নানা ঘটনায় ভোটারদের মধ্যে এ সংশয় ও আতঙ্ক। প্রচার শেষে ভোটগ্রহণের জন্য সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন অফিস। গতকাল রবিবার সকাল থেকে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ইভিএমসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। আজ সকাল ৮টা থেকে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট চলবে পঞ্চগড় পৌরসভায়।
গত শনিবার মধ্যরাত থেকে শেষ হয়েছে প্রচার। পৌরসভাটিতে এবারই প্রথম ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হবে। ওইদিন ইভিএম মেশিনে নতুন এ ভোটদান পদ্ধতি, সর্বস্তরের ভোটারদের জ্ঞাত করা ও ভোট প্রদান শেখানোর লক্ষ্যে জেলা নির্বাচন অফিস মক ভোটিংয়ের আয়োজন করে, কিন্তু তেমন সাড়া মেলেনি ভোটারদের। ১৫টি কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৮১০ জন মক ভোটার। এদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী পাঁচবারের নির্বাচিত বর্তমান মেয়র তৌহিদুল ইসলামের বাসভবন, নির্বাচন পরিচালনা অফিস, বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী সমর্থকদের বাসায় নৌকা মার্কার প্রার্থীর সমর্থকদের লোহা, ছুরি, রামদা নিয়ে হামলা, হুমকিধমকি ও ভাঙচুরের অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। রিটার্নিং অফিসারের কাছে এমন একাধিক অভিযোগ করা হয়েছে। করা হয়েছে সংবাদ সম্মেলন। বলা হয়েছে, নৌকার প্রার্থী ও তার সমর্থকদের বিরূপ আচরণে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও তার সমর্থকরা নির্বাচনের দিন ভোটাধিকার ও জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাকিয়া খাতুনও রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করে নৌকার সমর্থকদের ওপর বিএনপি সমর্থকদের হামলা, হুমকি, প্রচার কাজে বাধাদানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এসব কারণে পৌরসভাটির ভোটার ও বাসিন্দারা সংশয়ে আছেন ভোটের দিন কী হয় না হয়!
পঞ্চগড় পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমার জয়ের সম্ভাবনা শতভাগ জেনে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীরা ইতিমধ্যে আমার গণসংযোগ ও বাড়িতে হামলা করেছে। প্রচার-প্রচারণায় বাধা দিয়েছে। সুষ্ঠু ভোট নিয়ে তাই শঙ্কায় আছি। আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাকিয়া খাতুন বলেন, এবার আমার জনপ্রিয়তার কারণে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরা নৌকার সমর্থক ও ভোটারদের হুমকি দিয়ে আসছে।
পঞ্চগড় পৌরসভায় তিনজন মেয়র, ১৬ জন সংরক্ষিত আসনে নারী কাউন্সিলর এবং ৩৭ জন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলমগীর বলেন, ৯টি ওয়ার্ডের ১৫টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে পর্যাপ্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। পাশাপাশি পুলিশ ও র্যাবের মোবাইল টিম টহলে থাকবে। দুই প্লাটুন বিজিবিও থাকবে মাঠে। নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখছি না।
