মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর চ্যানেল দিয়ে প্রথম জাহাজ প্রবেশ করবে আগামীকাল মঙ্গলবার। কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বিভিন্ন ধরনের নির্মাণসামগ্রী নিয়ে আসা পানামার পতাকাবাহী জাহাজ ‘ভেনাস ট্রায়াম্প’ কাল সকাল ১০টায় মাতারবাড়ী বন্দরে ভেড়ার কথা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন আতাউল হাকিম সিদ্দিকী জানান, ১২০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯ হাজার ৬৮০ টন ওজন সম্পন্ন ‘ভেনাস ট্রায়াম্প’ জাহাজটি গত ২২ ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার ‘পেলাভুবন সিলেগন’ বন্দর থেকে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। কাল সকালে এটি মাতারবাড়ী চ্যানেল দিয়ে প্রবেশ করার কথা রয়েছে। বহির্নোঙর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের পাইলটরা মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের জন্য তৈরি করা চ্যানেল দিয়ে কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য নির্মিত অস্থায়ী জেটিতে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, জাহাজ ভেড়ানোর জন্য বন্দরের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রবেশ পথে প্রয়োজনীয় বয়া বসানো হয়েছে।
বন্দর কর্মকর্তারা জানায়, গভীর সমুদ্রবন্দরের জন্য খনন করা প্রায় ১৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য চ্যানেলটির গভীরতা ১৮ মিটার এবং প্রস্থ আড়াইশ’ মিটার। আর প্রথমবারের মতো আসা জাহাজটির ড্রাফট সাড়ে ৫ মিটার। তাই জাহাজটি জেটিতে প্রবেশে কোনো সমস্যা হবে না। পোর্ট অব কল হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরই এ জাহাজের সব ধরনের মাশুল আদায় করবে। এর ধারাবাহিকতায় আগামী ৫ জানুয়ারি আরও একটি জাহাজ মাতারবাড়ী বন্দরে যাবে।
সি-শোর মেরিন প্রাইভেট লিমিটেডের মালিকানাধীন পানামার পতাকাবাহী এই জাহাজের দেশীয় এজেন্ট এনসেইন্ট স্টিমশিপ লিমিটেড এবং শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর হলো গ্রিন এন্টারপ্রাইজ। ‘ভেনাস ট্রায়াম্প’ জাহাজে কোল পাওয়ার জেনারেশন বাংলাদেশ লিমিটেডের নামে আসা পণ্যগুলো খালাসের দায়িত্বে থাকা সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এলিট ট্রেডিং লিমিটেড সূত্র জানায়, জাহাজটিতে ৩১৩ প্যাকেজে ৭৩৬ দশমিক ৭ টন স্টিল অবকাঠামোসামগ্রী রয়েছে।
জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির অর্থায়নে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ও ধলঘাট এলাকায় এ গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। বন্দরটির উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭,৭৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাইকার ঋণ ১২,৮৯২ কোটি টাকা। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তহবিল থেকে ২,২১৩ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকারের ২,৬৭১ কোটি টাকা এ প্রকল্পে ব্যয় করা হচ্ছে। ২০২০ সালের ১০ মার্চ একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। গুরুত্ব বিবেচনায় প্রকল্পটিকে প্রধানমন্ত্রীর ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাপানের নিপ্পন কোই নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গভীর সমুদ্রবন্দরের নির্মাণের ব্যাপারে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এদের সঙ্গে জাপান পোর্ট কনসালট্যান্ট, সিডিআই ও ডিডিসি নামে তিনটি প্রতিষ্ঠান কাজ করবে। প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন, তত্ত্বাবধান, মনিটরিংসহ যাবতীয় কাজ এরা সম্পন্ন করবে। ২০২৬ সালে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক।
