মানসিক নির্যাতনের কারণে হেফাজতে ইসলামের প্রয়াত আমির মাওলানা শাহ আহমদ শফীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার ছেলেদের অনুসারী আলেমদের একটি অংশ।
বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে আহমদ শফীর মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ব্যানারে এতে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন আহমদ শফীর বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ বিন আহমদ শফী আল মাদানী। সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া অনেকেই আগে হেফাজতের কমিটিতে বিভিন্ন পদে ছিলেন এবং সরকার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিতি রয়েছে।
এতে বলা হয়, হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে পদত্যাগে বাধ্য করা, জীবনের শেষ মুহূর্তে প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করতে না দেওয়াসহ বিভিন্ন মানসিক নির্যাতনে আহমদ শফীর মৃত্যু হয়েছে।
মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীর নেতৃত্বাধীন হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটিকে ‘অবৈধ’ উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, হাটহাজারী মাদ্রাসার দায়িত্ব ছিনিয়ে নেওয়া এবং আহমদ শফীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর মাসখানেক পর হেফাজতে ইসলামের নামে মামা-ভাগনে অবৈধ কাউন্সিল করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে একটি অবৈধ কমিটি ঘোষণা করেছে। এই কমিটি অবৈধ ও অসাংবিধানিক।
সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে- বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে আহমদ শফীর মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শাস্তি; পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলা তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা; আহমদ শফীর পরিবারের সদস্য ও তার অনুসারীদের নিরাপত্তা বিধান এবং আহমদ শফীর রেখে যাওয়া অঙ্গনগুলো থেকে বিরোধীদের অপসারণ করা।
প্রসঙ্গত, আহমদ শফীকে হত্যার অভিযোগে চট্টগ্রামের আদালতে নালিশি মামলা করেন তার শ্যালক মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন। মামলা করার পর থেকেই মঈন উদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি-ধমকি ও জীবননাশের ভয় দেখানো হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আহমদ শফীর আরেক ছেলে আনাস বিন আহমদ শফী (আনাস মাদানী), আহমদ শফীর শ্যালক মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন, হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানীকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষক পদ থেকে অব্যাহতিসহ ছয় দফা দাবিতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্ররা।
দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে মাদ্রাসাটির মহাপরিচালকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন আহমদ শফী। একই সঙ্গে আনাস মাদানীকে মাদ্রাসার শিক্ষকের পদ থেকে অব্যাহতি দেয় শুরা কমিটি।
এরপর অসুস্থ আহমদ শফীকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হয় এবং ১৮ সেপ্টেম্বর মারা যান তিনি। তার মৃত্যুর পর ঢাকা ও চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলন করে হেফাজতের সাবেক কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেন যে, আহমদ শফীকে হত্যা করা হয়েছে।
