থানা পুলিশের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে ঢাকা রেঞ্জের ১৩ জেলার ৯৬ থানায় বসেছে ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরা। সেই ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় স্থাপিত নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে।
ক্যামেরার মাধ্যমে কর্তব্যরত কর্মকর্তা থেকে শুরু করে থানার হাজতখানা, নিরাপত্তারক্ষীদের অবস্থান ও ভুক্তভোগীদের সার্বিক অবস্থান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও কোনো অসঙ্গতি কিংবা অনিয়ম ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি আসাদুজ্জামান বলেন, পুলিশি সেবার মূল কেন্দ্র হলো থানা। কিন্তু থানা নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। সেই কারণে থানার কার্যক্রম মনিটর করতে তারা ঢাকা রেঞ্জের সব থানায় তিনটি করে ক্যামেরা বসিয়েছেন। এখন ঢাকার নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে কার্যক্রম মনিটর করতে পারছেন। নতুন বছরের শুরু থেকেই এই কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, থানার গেটে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, দুর্ব্যবহার করাসহ ক্ষেত্রবিশেষে আসামি বা তার স্বজনদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ আসে। এ ছাড়া নারী ও শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে কি-না, ডিউটি অফিসারের কক্ষে একই লোক বারবার আসছে কি-না, সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে সেন্ট্রি কেমন আচরণ করছেন, সেন্ট্রি রাতে কলাপসিবল গেটে তালা দিয়ে ভেতরে বসে আছেন কি-না ইত্যাদি বিষয় মনিটরিং করা হচ্ছে।
নিয়ম অনুসারে প্রতি থানায় প্রতিদিন ভোরে এবং রাত ১০টার পর হাজতিদের বিষয়ে তথ্য নেওয়া, হাজতখানায় কোনো অস্বাভাবিক বিষয় দেখা যায় কি-না, নারী হাজতি থাকলে নারী সেন্ট্রি আছে কি-না, হাজতখানা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও শীতকালীন কম্বল আছে কি-না, আসামির স্বজনরা খাবার দিচ্ছে কি-না, হাজতির সঙ্গে অস্বাভাবিক উপকরণ আছে কি-না ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করা হয় মনিটরিং সেন্টার থেকে।
ঢাকার নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তারা জানান, তারা শুধু এসব দৃশ্য চোখেই দেখছেন না, দর্শনার্থীর সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হচ্ছে তা-ও পর্যবেক্ষণ করছেন। এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাঠিয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণও শুরু হয়েছে, জানান তারা।
