ফেনীতে ঠিকাদার অপহরণ মামলায় শর্শদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সহসভাপতি জানে আলমকে একদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে ১ জানুয়ারি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিনের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। মঙ্গলবার শুনানি শেষে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে দক্ষিণ জাহানপুর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে জানে আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঠিকাদার খলিলুর রহমান বাদী হয়ে শর্শদি ইউপি চেয়ারম্যান জানে আলমও গ্রেপ্তার চারজনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও দুই থেকে তিন জনকে আসামি করে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় অপর দুই আসামি হলেন, উত্তর জাহানপুর এলাকার মোয়াজ্জেম বাড়ির আবুল কাসেমের ছেলে মো. সালাউদ্দিন ও জোয়ার কাছাড় এলাকার সাহাব উদ্দিন মোল্লা বাড়ির কবির আহম্মদের ছেলে কামরুল হাসান সাব্বির। তারাও বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে।
এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর রোববার ফেনী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার গ্রাম পুলিশদের পোশাক সরবরাহের দরপত্র জমা দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। ৫৪ লাখ টাকার ওই কাজ পেতে নির্ধারিত দিনে দরপত্র জমা দেওয়ার জন্য ফেনী আসেন টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার ইনপিঞ্জারপুর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী ঠিকাদার খলিলুর রহমান।
বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত ‘মাটি আর মানুষ’ নামীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খলিলুর রহমানকে গতিরোধ করে দরপত্র জমা দিতে নিষেধ করেন। তিনি তাদের নিষেধ অমান্য করে নির্ধারিত বাক্সে দরপত্র জমা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে মারধর করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে একটি কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে আটকে রাখে। খবর পেয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তল্লাশির পর দুপুরে তাকে উদ্ধার করে।
