অনুমতি ছাড়াই সুন্দরবনে ড্রোন উড়িয়ে ভিডিও চিত্রধারণের অভিযোগে পর্যটকদের কাছ থেকে একটি ড্রোন জব্দ করেছে বন বিভাগ।
শনিবার দুপুরে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা এলাকায় অবস্থান করা ‘এমভি টাঙুয়ার হাওড়’ নামের একটি টুরিস্ট লঞ্চ থেকে ড্রোনটি জব্দ করে বন বিভাগ।
বন বিভাগ জানায়, দুদিনের অনুমতি নিয়ে শনিবার সকালে শরণখোলা দিয়ে পর্যটকবাহী ওই লঞ্চটি সুন্দরবনে প্রবেশ করে। কিছু দূর যাওয়ার পর লঞ্চে থাকা এক পর্যটক বনের সুপতি এলাকায় ড্রোনটি উঠায়। এর পরপরই লঞ্চে থাকা বন বিভাগের নিরাপত্তাকর্মী ড্রোনটি নিজেদের জিম্মায় নেন।
লঞ্চটিতে প্রায় ৫০ জন পর্যটক ছিল। তারা টাইগার ট্যুরস লিমিটেড নামের একটি ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঢাকা থেকে সুন্দরবনে ঘুরতে আসেন।
শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, বনরক্ষীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে কটকা এলাকায় পর্যটকবাহী লঞ্চটি থেকে ড্রোনটি জব্দ করেছি। এটি বর্তমানে কটকা অভয়ারণ্যের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার আবুল কালামের কাছে রয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন দুপুরে বলেন, সুন্দরবন একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল। এখানে অনুমতি ছাড়া ড্রোন উড়ানো নিষিদ্ধ। কেউ ভিডিও ধারণ বা কোন প্রয়োজনে ড্রোন ব্যবহার করতে চাইলে মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি নিতে হয়। এই পর্যটকেরা অনুমতি না নিয়ে ড্রোন উড়ানোয় বন বিভাগ তা জব্দ করেছে। যে ব্যক্তি ড্রোনটি নিয়ে আসে তিনি বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা। তিনি দাবি করেছেন সুন্দরবনে যে ড্রোন উড়ানো নিষিদ্ধ তা তার জানা ছিল না।
এর আগে বন বিভাগ ২০১৬ সালের জানুয়ারি এবং ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগ এলাকা থেকে দুটি ড্রোন জব্দ করেছিল। ওই দুই বারই উদ্ধার হওয়া ড্রোন দুটি ছিল বিদেশি নাগরিকদের। তবে এবার উদ্ধার হওয়া ড্রোনটি এক বাংলাদেশি পর্যটকের।
তবে এ বিষয়ে টাইগার ট্যুরস লিমিটেডের ওয়েব সাইটে থাকা মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
