নারীর কাজী হতে না পারা বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ে সংক্ষুব্ধ ২১ নাগরিক

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২১, ০৮:২৬ পিএম

সম্প্রতি বাংলাদেশের হাইকোর্ট ‘নারী বিয়ের কাজী হতে পারবে না’- মর্মে দেওয়া রায়ে মর্মাহত এবং সংক্ষুব্ধ হয়েছেন দেশের ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিক।

সোমবার ২১ জন নাগরিকের পক্ষে নাসির উদ্দীন ইউসুফের পাঠানো এক বার্তায় তাদের এই সংক্ষুব্ধতার কথা জানানো হয়েছে।

সংক্ষুব্ধ অন্যরা হলেন- আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী, হাসান আজিজুল হক, অনুপম সেন, শামসুজ্জামান খান, ফেরদৌসী মজুমদার, সারওয়ার আলী, আবদুস সেলিম, সেলিনা হোসেন, মামুনুর রশীদ, মফিদুল হক, মুনতাসীর মামুন, শফি আহমেদ, শাহরিয়ার কবীর, সারা যাকের, লাকী ইনাম, গোলাম কুদ্দুছ, শিমূল ইউসুফ, মোহাম্মদ সামাদ, হাসান আরিফ, আহকামউল্লাহ।

এতে বলা হয়, নারীর শরীর প্রাকৃতিক নিয়মে মাসে একবার নির্দিষ্ট সময়ে ঋতুমতি হয়, এটি প্রকৃতির নিয়মে সংঘটিত একটি জৈবিক প্রক্রিয়া। নারীর ঋতুমতি হওয়া যদি বন্ধ হয়ে যায় তবে মানুষের জন্ম হবে না এবং মানব জাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

এই ঋতুমতির নির্দিষ্ট সময়ে নারী, গৃহ ও বাইরের সকল কাজ সম্পাদন করে থাকে। পারিবারিক, সামাজিক, দাপ্তরিক, রাষ্ট্রীয় এবং উৎপাদন পদ্ধতিতে সর্বাংশে অংশগ্রহণ ও সকল দায়িত্ব সুচারু রূপে পালন করে থাকেন।

নিকাহ বা বিয়ে নিশ্চয়ই মসজিদেই হতে হবে এটা ইসলাম ধর্মে বাধ্যতামূলক নয়। সিংহভাগ বিয়ে বাসায়, বিয়ে-অনুষ্ঠানস্থলে ও কাজী অফিসে সম্পন্ন হয়ে থাকে। অতএব মসজিদে নির্দিষ্ট সময়ে নারীদের প্রবেশাধিকারে নিয়ন্ত্রিত কারণে প্রদত্ত রায় কার্যত নারী অধিকারকে সংকুচিত করেছে।

বার্তায় তারা বিজ্ঞ উচ্চ আদালতকে এ রায় পুনর্বিবেচনা করে সংবিধান প্রদত্ত নারী-পুরুষ সম অধিকারের ভিত্তিতে রায় প্রদানের অনুরোধ জানান।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সামাজিক ও বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে কোনো মুসলিম নারী নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজী হতে পারবেন না মর্মে দেওয়া হাইকোর্টের রায় প্রকাশিত হয়েছে।

রবিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এ সংক্রান্ত রিটকারীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির।

হাইকোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণের বরাত দিয়ে রিটকারীর আইনজীবী হুমায়ুন কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, মুসলিম বিবাহ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং এটি বেশির ভাগ সময় মসজিদে হয়। নারীরা মাসের একটি নির্দিষ্ট সময় ফিজিক্যাল ডিজেবল হন। তাই নারীদের পক্ষে এই ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা কঠিন এবং বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে নারীদের এই দায়িত্ব পালন করা সমীচীন হবে না। সুতরাং এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় যে মতামত দিয়েছিল সেটিই বহাল থাকল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত