অপেক্ষা ফুরাচ্ছে নিজের বাড়ির

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ১২:৩২ এএম

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাকাঘরের অপেক্ষায় আছে পাঁচ হাজারের বেশি গৃহহীন পরিবার। পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ৫ হাজার ৮৫৭টি পরিবারের জন্য ঘরগুলোর নির্মাণ শেষের দিকে। ‘শেখ হাসিনার অবদান গৃহহীনের বাসস্থান’ সেøাগানে প্রকল্পটিতে পরিবারগুলোকে জমিসহ ঘরগুলো দেওয়া হবে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

পঞ্চগড় : সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের বিলুপ্ত গারাতি ছিটমহলের যোগীপাড়া গ্রামের দিনমজুর বিল্লাল হোসেনের নিজের জমি নেই। অন্যের জমিতে খড়ের ঘর তুলে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কোনোমতে সংসার যাপন করছিলেন। এখন তার জন্য সরকারি ঘর নির্মাণ হতে দেখে তিনি আনন্দে আত্মহারা।

বিল্লাল বলেন, ‘ছিটমহল বিনিময় করে প্রধানমন্ত্রী আমাদের স্বাধীন দেশে বসবাস করার সুযোগ করে দিয়েছেন। এখন তিনি আমাদের সরকারি জমিতে পাকাঘর তৈরি করে দিচ্ছেন। তিনি গরিবের বন্ধু। আমরা দোয়া করছি মহান আল্লাহতায়ালা যেন তাকে বহুদিন বাঁচিয়ে রাখেন।’ কথাগুলো বলতে বলতে চোখের কোণে জল এসে যায় বিল্লালের। নতুন ঘরে সাজাবেন নতুন জীবন। এমনটাই প্রত্যাশা গৃহহীন এ দিনমজুরের।

পঞ্চগড়ের পাঁচ উপজেলায় ১ হাজার ৬৮টি গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে সরকারি জমিসহ একটি করে বাড়ি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় সরকারি খাসজমিতে এসব বাড়ি নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের দিকে। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য এসব বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। প্রতিটি বাড়ির বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এজন্য ১৮ কোটি ২৬ লাখ ২৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সংযুক্ত শৌচাগারসহ দুটি কক্ষবিশিষ্ট ওই পাকাঘরে থাকছে রান্নাঘর ও বারান্দা। সুপেয় পানির জন্য থাকছে টিউবওয়েল। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এসব বাড়ি নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করা হবে কিছুদিনের মধ্যেই। এসব কাজের তদারকি ও দেখভাল করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রশাসক নিজেই।

বাড়ির কাজ পরিদর্শন করতে এসে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ হোসেন বললেন, কাজ সঠিকভাবে আদায় করে নিচ্ছি আমরা।

দিনাজপুর : খানসামা উপজেলার পূর্ব বাসুলী গ্রামের গেন বালা বৈশ্য একজন বিধবা ও ভিক্ষুক মহিলা। ৪৮ বছর বয়সী এ নারী অন্যের কাছে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবন পরিচালনা করছেন। থাকার মতো ঘরটুকুও নেই! নিজের জমি-জায়গা বলতেও কিছু নেই! এবার তিনি দুই রুমবিশিষ্ট সরকারি জমিতে একটি আধাপাকা পূর্ণাঙ্গ ঘর পাচ্ছেন।

গেন বালা বৈশ্য বলছিলেন, ‘হামার স্বামী নাই! থাকার মতো কোনো জায়গাও নাই। হামাক সরকার থাকি একটা বাড়ি তৈরি করে দেওছে! এই জীবনে ইটের বাড়িত থাকির পারিমো এটা কোনোদিনও ভাবো নাই!’

দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় ৪ হাজার ৭৬৪টি গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে সরকারি জমিসহ একটি করে বাড়ি। কয়েকটি উপজেলায় গিয়ে দেখা গেছে বাড়িগুলোর নির্মাণকাজ শেষের দিকে।

দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম বলেন, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী এসব বাড়ি উদ্বোধন করবেন।

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) : বাঁশখালী পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের দীঘিপাড় এলাকার গুচ্ছগ্রামে সরকারিভাবে ২৫টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে একটি করে ঘর দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, কাজের মান যাচাই করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়মিত তদারকি করে যাচ্ছেন।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, মুজিববর্ষের বিশেষ উপহারের এ ২৫টি ঘর ২০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন বলে দ্রুত কাজ সম্পাদন

করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত