প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর কানাডায় পালিয়ে থাকা এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক এমডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) পি কে (প্রশান্ত কুমার) হালদারের সহযোগী সুকুমার মৃধা ও তার মেয়ে অনিন্দিতা মৃধাকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার দুদকের তলবে হাজির হলে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সকাল ১০টা থেকে দুদকের প্রধান কার্যালয় সেগুনবাগিচায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুপুর ১টায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে দুপুর ২টায় সিএমএম আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়।
দুদক সচিব মুহা. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, পি কে হালদার বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পর তার অবৈধ সম্পদ দেখাশোনা করতেন সুমুকার ও অনিন্দতা মৃধা। পিকে হালদারের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানও করেন সুকুমার মৃধা।
‘পি কে হালদার ভুয়া ঋণ দেখিয়ে অবৈধভাবে অর্জিত প্রায় ১০০ কোটি টাকা তার মা লিলাবতী হালদারের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে রাখেন। পরে লিলাবতী হালদারের ব্যাংক হিসাব থেকে সুকুমার মৃধা, অবন্তিকা বড়াল ও অনিন্দিতা মৃধার মাধ্যমে আবার পিকে হালদারের কাছে হস্তান্তর ও স্থানান্তর করা হয়। এভাবে তারা মানিলন্ডারিং করেছেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য পেয়েছেন।’
পি কে হালদার প্রথমে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও পরে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাংকবহির্ভূত আরও চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজ কর্তৃত্বে ও নিয়ন্ত্রণে নেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণের নামে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ ওঠে পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। অবৈধ ব্যবসা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে পৌনে ৩০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে গত ৮ জানুয়ারি মামলা করে দুদক।
অভিযোগ ওঠার পরপরই কানাডায় পালিয়ে যান তিনি। এক বিনিয়োগকারীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ জানুয়ারি পি কে হালদার ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ ২০ জনের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত।
