সংবিধান বদলেও মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১১:২০ পিএম

হোয়াইট হাউজের শেষ দিনগুলোয় ভয়াবহ সব পরিকল্পনা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শনিবার নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তার সঙ্গে সংবিধানবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে পরামর্শ করেছিলেন। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেলকে বরখাস্ত করে বিচার বিভাগের মাধ্যমে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ভোটের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্রও করছিলেন ট্রাম্প।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, নির্বাচনের ফলাফল বদলে দিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওপর চাপ দিয়েছেন ট্রাম্প। সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্রিস্টোফার মিলার ভ্যানেটি ফেয়ার সাংবাদিকদের বলেছেন, গত নভেম্বর মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি তিনটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পেন্টাগন ও বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কোনো সামরিক ক্যু নয়। কোনো যুদ্ধে যাওয়া যাবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজপথে কোনো সেনাবাহিনী থাকবে না।

গত ৬ জানুয়ারি ট্রাম্পের আহ্বানে ক্যাপিটল হিলে হামলার পর থেকেই পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। এ ঘটনার পর কংগ্রেস ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফা অভিশংসন প্রস্তাব গ্রহণ করে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন বিচার যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে শুরু হবে। এ নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। অভিশংসন বিচারে শাস্তি হলে ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। যদিও এ ক্ষেত্রে ঝামেলা আছে। রিপাবলিকান সিনেটররা বলছেন, ক্ষমতা ত্যাগ করার পরও যদি ট্রাম্পকে অভিশংসিত করা হয় তাহলে সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টদের অনেকের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনা হতে পারে। আর এমনটা হলে তা হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।

পেন্টাগন ও বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কোনো সামরিক ক্যু নয়। কোনো যুদ্ধে যাওয়া যাবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজপথে কোনো সেনাবাহিনী থাকবে না। সিনেটে ট্রাম্পের অভিশংসন দণ্ডের জন্য ১৭ জন রিপাবলিকানের সমর্থন পাওয়াও নিশ্চিত নয়। ক্রিস্টোফার মিলার তার সাক্ষাৎকারে বলেছেন, পরিস্থিতির ওপর বিচার বিভাগ ও প্রতিরক্ষা বিভাগ থেকে অব্যাহত নজর রাখা হচ্ছিল। সভার পর সভা চলছিল। ক্যাপিটল হিলের পরিস্থিতি নাজুক হওয়ার আগেই ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখা হয়েছিল।

জর্জিয়ার রিপাবলিকান গভর্নর ব্রায়ান ক্যাম্প এবং সেক্রেটারি অব স্টেট ব্র্যাড রাফেনস্পার্জার ট্রাম্পের প্রচণ্ড চাপে ছিলেন। পেন্টাগনে ট্রাম্পকে নিয়োগকারী কর্মকর্তা এরজা কোহেন ভ্যানেটি ফেয়ারকে বলেছেন, ‘ট্রাম্প আমাদের বিরূপ পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়েছিলেন।’ শুধু রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নয়, অন্যদেরও ট্রাম্প নাজুক বাস্তবতায় ফেলেছিলেন বলে ট্রাম্প মনোনীত এ কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত