বরগুনা চৌমুহনীতে হামলা কালিয়ায় অগ্নিসংযোগ

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ০১:২৯ এএম

পৌরসভা নির্বাচনে বরগুনায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়রের স্ত্রী প্রচারণায় নেমে হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে কয়েকজন নারী সমর্থক আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়। নোয়াখালীর চৌমুহনীতে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীর প্রচারণায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। অন্যদিকে নড়াইলের কালিয়ায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে ককটেল নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :

বরগুনা : পৌরসভা নির্বাচনে জগ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র শাহাদাত হোসেনের স্ত্রী হেনারা বেগম প্রচারণায় নেমে হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই নারী কর্মী। গতকাল রবিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে শহরের সদর সড়কের প্রেস ক্লাব গলিতে এ ঘটনা ঘটে। এছাড়াও শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রচারণায় থাকা জগ প্রতীকের প্রচার মাইক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

হামলার শিকার স্বতন্ত্র প্রার্থীর স্ত্রী হেনারা বেগম জানান, স্বামী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান পৌর মেয়র শাহাদাত হোসেনের পক্ষে প্রচারণার জন্য পৌরসুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছে গেলে প্রেস ক্লাব গলিতে মুখে রুমাল বাঁধা এক তরুণ তাদের লক্ষ্য করে উপর্যুপরি ডিম ছুড়তে থাকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই তরুণ ডিমের খাঁচা দিয়ে তাদের পিটিয়ে আহত করে।

খবর পেয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মফিজুর রহমান থানার পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাদাত হোসেন বলেন, শহরের মাদ্রাসা সড়ক ও ব্রাঞ্চ রোড এলাকায় জগ প্রতীকের প্রচার মাইক ভাঙচুর করেছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা।

তবে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী কামরুল আহসান মহারাজ বলেন, শাহাদাত হোসেনের দুর্নীতির কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়ে জগ প্রতীকের প্রচারকদের লাঞ্ছিত করে থাকতে পারেন। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ বা আমার সমর্থকদের কেউ এতে জড়িত নয়।

নোয়াখালী : চৌমুহনী পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহর প্রচারণায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রবিবার সকালে চৌমুহনী পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে মুক্তিযোদ্ধা গাজী আমানউল্যা মিয়ার বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। ঘটনার পরপরই কর্মী-সমর্থকরা রাস্তায় এসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি চৌমুহনী বাজারের প্রধান সড়ক থেকে বের করে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্কয়ারে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

এরপর দুপুরে নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্তদের বিচার দাবি করেছেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ। গতকাল দুপুর ১টায় বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌরাস্তা এলাকার গ্লোব ডেইরি ফার্মে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

নড়াইল : কালিয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ওয়াহিদুজ্জামান হীরার নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে ককটেল নিক্ষেপ ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার রাত ১টার দিকে বড় কালিয়ার ব্যাপারীপাড়া নির্বাচনী অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ওয়াহিদুজ্জামান হীরার ভাই শহীদুল ইসলাম শাহী জানান, রাত ১টার দিকে বিদ্রোহী প্রার্থী ফকির মুশফিকুর রহমান লিটনের কর্মী-সমর্থকরা বড় কালিয়ার ব্যাপারীপাড়া নির্বাচনী অফিসে বেশ কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করে। পরে নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে লিটনের পক্ষে মিছিল দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। মিছিল থেকে কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণপদ ঘোষকে হত্যার হুমকি দিয়ে সেøাগান দেওয়া হয়।

তবে এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র ফকির মুশফিকুর রহমান বলেন, কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণপদ ঘোষ এসব ঘটনা ঘটিয়ে আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।

নড়াইলের সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়া সার্কেল) রিপন চন্দ্র সরকার বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দুটি ককটেলসদৃশ বস্তু ও দুটি ছ্যানদা উদ্ধার করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত