কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নবী হোসেন হত্যা ও লাশ ৬ টুকরা করে গুমের মামলায় এক নারীসহ দুজনকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল সোমবার কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় দেন।
দন্ডিত আসামিরা হলেন নিহত নবী হোসেনের সাবেক প্রেমিকা সুমনা বেগম ওরফে শিলা (৩০) ও সুমনার সাবেক স্বামী নজরুল ইসলাম (৩৮)। একইসঙ্গে তাদের দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। আসামি সুমনা পলাতক রয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় মামলার অন্য তিন আসামি উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর দুই আসামি আশরাফুল রাসেল ও মো. শরীফ মিয়াকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, দন্ডিত আসামি নজরুলের সঙ্গে সুমনা বেগমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে বিয়ে হলেও ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। পরে ভৈরব সদরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া গ্রামের কবিরাজ নবী হোসেনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে সুমনার। ভৈরবের চন্ডিবেড় দক্ষিণপাড়া গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন সুমনা। পরে নজরুল ইসলামের সঙ্গে সুমনার সম্পর্ক গড়ে উঠলে এ নিয়ে নবী হোসেনের সঙ্গে সুমনার বিরোধ বাধে। ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর নবী হোসেনকে ফোন করে তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যান সুমনা। ওইদিন গভীর রাতে সুমনার বাসায় নবী হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে লাশ ৬ টুকরা করে ভৈরবের কয়েকটি স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির এসআই মো. নজরুল ইসলাম ২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি চার জনের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী আবু সাঈদ ইমাম বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে রায়ে সংক্ষুব্ধ আসামি পক্ষ। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানান তারা।
